শিরোনাম
বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে সংসদে রাজনৈতিক সংকটের সমাধান আসবে : মির্জা ফখরুল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে বসবে সৌর প্যানেল রাতে ন্যাশনাল ব্যাংকে ২৩ কোটি লেনদেন, ১৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে তলব সোমবার থেকে কাঁচামরিচ আমদানির কার্যক্রম শুরু হবে: কৃষিমন্ত্রী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলে মিলবে ৫ শতাংশ করছাড়: এনবিআর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবিতে শ্রীমঙ্গলে মানববন্ধন হাকালুকি হাওরে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় হাজারো মানুষের ঢল শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী

পাচার হওয়া ঋণের অর্থ ফেরাতে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

বিদেশে পাচার হওয়া ঋণের অর্থ পুনরুদ্ধারে তৎপরতা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অ্যাসেট রিকভারি প্রতিষ্ঠান ও লিটিগেশন ফান্ডারদের যুক্ত করে ‘সিভিল অ্যাসেট রিকভারি’ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর প্রায় ৬০ শতাংশ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষর সম্পন্ন করেছে।

গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্স (এআরটিএফ)-এর চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

‘আপডেট অব সিভিল অ্যাসেট রিকভারি স্ট্যাটাস’ শীর্ষক ওই সভায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ও উপপ্রধান, সংশ্লিষ্ট পরিচালকরা এবং বিদেশে অর্থ পাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ফোকাল পয়েন্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় গভর্নরের পরামর্শক ও অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্সের সদস্য ফারহানুল গনি চৌধুরী বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি তুলে ধরেন। উপস্থাপনায় জানানো হয়, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশ দুটি পদ্ধতিতে কাজ করছে—ক্রিমিনাল ও সিভিল প্রসিডিংস।

এর মধ্যে ক্রিমিনাল প্রসিডিংস সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক অ্যাসেট রিকভারি প্রতিষ্ঠান ও লিটিগেশন ফান্ডার নিয়োগের মাধ্যমে সিভিল প্রসিডিংস শুরু করেছে, যাতে তাদের পাওনা অর্থ আদায় করা যায়।

সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ ও বিদেশে অর্থ পাচারের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথম ধাপে ছয়টি গ্রুপ নির্বাচন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অ্যাসেট রিকভারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য ১০টি ব্যাংক ইতোমধ্যে ৯টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোট ৩৬টি এনডিএ স্বাক্ষর করেছে।

তবে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ প্রক্রিয়ায় তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এসব ব্যাংক দ্রুত এনডিএ স্বাক্ষর প্রক্রিয়া শেষ করে অ্যাসেট রিকভারি কার্যক্রমে আরও সক্রিয় হবে।

সভায় আরও জানানো হয়, কিছু ব্যাংক ইতোমধ্যে খেলাপি ঋণসংক্রান্ত তথ্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরবরাহ শুরু করেছে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা শেষে অর্থ উদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে।

প্রথম ধাপের কার্যক্রম শেষ হলে দ্বিতীয় ধাপে আরও বড় পরিসরে উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদেশে ঋণের অর্থ পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০০টির বেশি মামলাকে সামনে রেখে পরবর্তী ধাপ শুরু করার কথা ভাবা হচ্ছে।

সভায় গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই অর্থ মূলত সাধারণ আমানতকারীদের টাকা, তাই দ্রুত তা উদ্ধার করে আমানতকারীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, এ কাজে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না। কোনো ধরনের চাপ এলে ব্যাংকগুলো যেন সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার দায়িত্ব তিনি নিজেই নেবেন বলেও জানান গভর্নর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল অঙ্কের অর্থ পুনরুদ্ধারে নতুন গতি আসতে পারে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office