নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
২০২৫ সালে রেকর্ড মুনাফা অর্জন করেছে সিটি ব্যাংক পিএলসি। আলোচিত বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। যা আগের বছরের ১ হাজার ১৪ কোটি টাকার তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ব্যাংকটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ব্যাংকের একক মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা। পাশাপাশি চারটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে অতিরিক্ত ১৮ কোটি টাকা নিট মুনাফা যোগ হয়েছে। ২০২৫ সালে ঋণ থেকে সুদ আয় ২৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা থেকে ৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
একই সময়ে সম্পদের গুণগত মানেও উন্নতি করেছে ব্যাংকটি। শ্রেণিকৃত ঋণের (এনপিএল) হার কমে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
অব্যাহত মুদ্রাস্ফীতির চাপের মধ্যেও আমানতের খরচ ৫ দশমিক ৫ শতাংশে সীমিত রাখতে সক্ষম হয়েছে ব্যাংকটি। সরকারি সিকিউরিটিজে কৌশলগত বিনিয়োগের ফলে মোট পরিচালন আয়ের ২৬ শতাংশ এসেছে এ খাত থেকে। ৪ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকার মোট পরিচালন আয়ের বিপরীতে নিট বিনিয়োগ আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা।
২০২৫ সালে দেশীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ট্রেড ব্যবসা করেছে সিটি ব্যাংক। এ খাত থেকে কমিশন ও ফি আয় হয়েছে ৫২৬ কোটি টাকা। এছাড়া রিটেইল ব্যাংকিং ও কার্ড ব্যবসা থেকে এসেছে ৪৭১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মোট ফি ও কমিশন আয় দাঁড়িয়েছে ৯৯৭ কোটি টাকা, যা মোট পরিচালন আয়ের ২১ শতাংশ।
ব্যয় দক্ষতাও ধরে রেখেছে ব্যাংকটি। ৪ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকার আয়ের বিপরীতে মোট ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। ফলে কস্ট-টু-ইনকাম অনুপাত ৪৪ শতাংশে সীমিত রয়েছে।
তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রভিশন ব্যয় বাড়িয়েছে ব্যাংকটি। ২০২৫ সালে প্রভিশন ব্যয় বেড়ে ৮১৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৬২৮ কোটি টাকা। এতে প্রভিশন কভারেজ অনুপাত বেড়ে ১২৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন বলেন, সব কোর ব্যাংকিং সেগমেন্ট থেকেই শক্তিশালী আয় এসেছে। বিশেষ করে রিটেইল ব্যাংকিং ও কার্ড ব্যবসা করপোরেট ব্যাংকিং আয়ের চেয়ে এগিয়ে গেছে, যা বছরে ৩৩ শতাংশ বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্মল বিজনেস, ন্যানো লোন, রিটেইল লোন ও ক্রেডিট কার্ড পোর্টফোলিওর ঋণের গুণগত মান সন্তোষজনক। এলসি ব্যবসায় নেতৃত্ব এবং আমানতের খরচ নিয়ন্ত্রণ ব্যাংকের বড় শক্তি।l
তবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে করপোরেট ও মাঝারি খাতের ঋণ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে বলেও জানান মাসরুর আরেফিন। ৮ হাজার কর্মীর একটি বড় ব্যাংক হিসেবে কস্ট-টু-ইনকাম অনুপাত ৪৫ শতাংশের নিচে রাখতে পারাকে অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।