নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
নতুন জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা বিভিন্ন ধরনের ভাতা পাবেন। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ অনুযায়ী শিক্ষা সহায়ক ভাতা, টিফিন, যাতায়াত, মোবাইল, কার্যভার, পাহাড়ি, হাওড়-দ্বীপ-চর ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। এর আগে গত ৩১ আগস্ট নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।
নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী ভ্রমণ ভাতা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। তবে বাস্তব অবস্থার আলোকে অর্থ বিভাগ পরে ভ্রমণ ভাতার হার পুনর্নির্ধারণ করে পৃথক আদেশ জারি করবে।
বার্ষিক উৎসব ভাতা ও শ্রান্তি-বিনোদন ভাতা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী দেওয়া হবে। অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরা নিট পেনশনের সমপরিমাণ হারে বছরে দুটি উৎসব ভাতা পাবেন। ১০০ শতাংশ পেনশন সমর্পণকারীরাও পেনশন সমর্পণ না করলে যে পরিমাণ নিট পেনশন পেতেন, সেই হারে বছরে দুটি উৎসব ভাতা পাবেন।
শিক্ষা সহায়ক ভাতা
সন্তানপ্রতি মাসে ৫০০ টাকা হারে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য মাসে ১ হাজার টাকা শিক্ষা সহায়ক ভাতা দেওয়া হবে। স্বামী ও স্ত্রী দুজনই সরকারি কর্মচারী হলে একজনের ক্ষেত্রেই সন্তান সংখ্যা গণনা করে ভাতা নির্ধারণ করা হবে। বয়সের সার্টিফিকেট দাখিল সাপেক্ষে ২৩ বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানের জন্য এ ভাতা পাওয়া যাবে।
টিফিন ও মোবাইল ভাতা
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর ১৩তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা পাবেন। তবে প্রতিষ্ঠান থেকে লাঞ্চ ভাতা বা বিনামূল্যে দুপুরের খাবার পাওয়া কর্মচারীরা এ ভাতা পাবেন না।
পঞ্চম গ্রেড ও এর ওপরের কর্মচারীরা মাসে ৫০০ টাকা এবং ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা পাবেন।
যাতায়াত ও কার্যভার ভাতা
সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ৬০০ টাকা যাতায়াত ভাতা পাবেন।
চলতি দায়িত্ব বা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা কার্যভার ভাতা পাবেন।
ধোলাই ও আপ্যায়ন ভাতা
যেসব কর্মচারীর ক্ষেত্রে ধোলাই ভাতা প্রযোজ্য, তারা মাসে ৩০০ টাকা পাবেন।
আপ্যায়ন ভাতা হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মাসে ২ হাজার টাকা, সিনিয়র সচিব ও সচিব ১ হাজার টাকা, অতিরিক্ত সচিব ৯০০ টাকা এবং যুগ্মসচিব ও অন্যান্য প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মচারীরা ৬০০ টাকা পাবেন।
পাহাড়ি ও হাওড়-দ্বীপ-চর ভাতা
পার্বত্য জেলার সদর ও সদর উপজেলায় কর্মরত কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পাহাড়ি ভাতা পাবেন। অন্যান্য উপজেলায় এ ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫০০ টাকা।
হাওড়, দ্বীপ ও চর এলাকায় কর্মরত কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা ভাতা পাবেন।
প্রশিক্ষণ ও প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা
প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে শুধু প্রশিক্ষণ কাজে প্রেষণে থাকা নবম গ্রেড ও এর ওপরের গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের ১০ শতাংশ হারে মাসিক প্রেষণ ভাতা পাবেন।
প্রচলিত নিয়মে প্রতিবন্ধী হিসেবে নিবন্ধিত সন্তানের জন্য জনপ্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা হারে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান ভাতা দেওয়া হবে।
ঝুঁকি ভাতাও বহাল
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, কারাগার, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর নির্দিষ্ট পর্যায়ের কর্মচারীদের ঝুঁকি ভাতার ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের গত ২ সেপ্টেম্বরের সংশ্লিষ্ট আদেশগুলো প্রযোজ্য হবে।
তবে ঝুঁকি ভাতার হার মূল বেতনের শতাংশ হিসেবে নির্ধারণ করা যাবে না। প্রেষণে থাকা কর্মচারীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর জন্য নির্ধারিত ঝুঁকি ভাতা, বিশেষ ভাতা বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা সার্ভিস ভাতা পাবেন না বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
বিশেষ ভাতায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি
এনএসআই, ডিজিএফআই, এসএসএফ, পিজিআর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এবং সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগের নির্দিষ্ট পর্যায়ের কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ভাতা, বিশেষ গার্ড ভাতা, ক্ষতিপূরণ ভাতা ও ঝুঁকি ভাতায় নতুন সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
এসব কর্মচারী গত ৩০ জুন যে পরিমাণ বিশেষ ভাতা, বিশেষ গার্ড ভাতা, ক্ষতিপূরণ ভাতা বা ঝুঁকি ভাতা পেতেন, তার ওপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ পাবেন। অর্থাৎ ৩০ জুনে পাওয়া ভাতার সঙ্গে ২০ শতাংশ যোগ করে নতুন ভাতার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
তবে নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী এসব ভাতার হার মূল বেতনের শতাংশ হিসেবে নির্ধারণ করা হবে না। প্রেষণে থাকা কর্মচারীরাও নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর নির্ধারিত ঝুঁকি, বিশেষ বা প্রতিরক্ষা সার্ভিস ভাতা পাবেন না।