শিরোনাম
মোংলা বন্দর হবে সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগ: ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ গ্রাউন্ড অপারেশন আধুনিকায়নে ২২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ইউএস-বাংলার মিডল্যান্ড ব্যাংকের সঙ্গে ব্র্যাক আইটির সমঝোতা স্মারক সই তৃতীয় প্রান্তিকে সিটি ব্যাংকের মুনাফায় ২০ প্রবৃদ্ধি তিন দিনের সফরে ঢাকায় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে রুল জারি সরানো হলো নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত বাণিজ্যে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা অব্যাহত রাখার আহ্বান বাংলাদেশের

এলডিসি-পরবর্তী বাজারে টিকে থাকতে আইপিআর সুরক্ষা জোরদারের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৯৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

এলডিসি-পরবর্তী বাজারে টিকে থাকতে আইপিআর সুরক্ষা জোরদারের তাগিদ

এলডিসি উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও শিল্পের অবস্থান ধরে রাখতে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ অধিকার (আইপিআর) ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তার মতে, ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় শুধু বেশি উৎপাদন নয়, উদ্ভাবন, ব্র্যান্ডের মূল্য এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তাই ফার্মাসিউটিক্যালস, তৈরি পোশাকসহ সম্ভাবনাময় শিল্পে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি ব্র্যান্ডিং এবং মূল্য সংযোজন বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে উদ্ভাবন ও সৃষ্টিশীল কাজের স্বত্ব সুরক্ষায় আইপিআর ব্যবস্থার প্রয়োগ আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
বিজ্ঞাপন

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল শিফট ইন দ্য পোস্ট-এলডিসি ইরা: স্ট্র্যাটেজিস ফর আইপিআর ইস্যুজ অব কি ইন্ডাস্ট্রিজ’ শীর্ষক ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনে (এফজিডি) এসব কথা বলেন তিনি।

সাপোর্ট টু সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রজেক্ট (এসএসজিপি), অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং ডিসিসিআই যৌথভাবে এ আলোচনার আয়োজন করে।
বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও সাপোর্ট টু সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক এ এইচ এম জাহাঙ্গীর। পরে আলোচনায় বক্তব্য দেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

তাসকীন আহমেদ বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে এখন পণ্য ও অবকাঠামোর পাশাপাশি জ্ঞান ও সৃষ্টিশীলতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সম্পদের গুরুত্ব বাড়ছে। ফলে এলডিসি-পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত রাখতে কার্যকর আইপিআর ইকোসিস্টেম অপরিহার্য।

তিনি বলেন, সম্ভাবনাময় শিল্পগুলোকে প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নিতে উদ্ভাবন, নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং পণ্যে বাড়তি মূল্য সংযোজনের দিকে নজর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইপিআর সুরক্ষা ও আইনগত প্রয়োগের দুর্বলতা দূর করা জরুরি।

দেশের বর্তমান আইপিআর ব্যবস্থার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন ডিসিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রক কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি, পাইরেটেড ও নকল পণ্যের বিরুদ্ধে সীমিত সক্ষমতা এবং উদ্যোক্তাদের মধ্যে আইপিআর সম্পর্কে অপর্যাপ্ত ধারণা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এসব সমস্যা কাটাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক ও কার্যকর ‘ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অফিস অব বাংলাদেশ (আইপিওবি)’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

আইপিআর-সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তিতে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে পৃথক আইপি ট্রাইব্যুনাল অথবা আইপি বেঞ্চ চালুর প্রস্তাবও দেন তাসকীন আহমেদ। পাশাপাশি কাস্টমস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য আইপিআর বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ডিপার্টমেন্ট অব পেটেন্টস, ডিজাইনস অ্যান্ড ট্রেডমার্কসের (ডিপিডিটি) আবেদন, নিবন্ধন ও পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এতে দীর্ঘদিনের জমে থাকা কাজ বা ব্যাকলগ কমানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে ফার্মাসিউটিক্যালস ও বায়োটেকনোলজির মতো জটিল খাতের আবেদন যাচাইয়ে বিশেষজ্ঞ পরীক্ষক নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে।

গবেষণার ফল শিল্পে দ্রুত কাজে লাগাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে টেকনোলজি ট্রান্সফার অফিস (টিটিও) চালুর প্রস্তাব দেন তিনি। একই সঙ্গে গবেষক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার কথাও বলেন।

তাসকীন আহমেদ আরও বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আইপিআর সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদকে অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে ব্যাংক ও অন্যান্য অর্থায়ন ব্যবস্থায় এর মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

ডিজিটাল মাধ্যমে কনটেন্ট ও সৃষ্টিশীল কাজের অননুমোদিত ব্যবহার ঠেকাতে কপিরাইট আইন ও সংশ্লিষ্ট সাইবার বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকর ‘নোটিশ অ্যান্ড টেকডাউন’ ব্যবস্থা চালুর কথাও বলেন তিনি।

আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের ফ্যাকাল্টি অব ল এবং ডব্লিউআইপিও একাডেমির সাবেক পরামর্শক মোহাম্মদ আতাউল করিম।

এ সময় ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ফায়েজ আহমেদ, ব্রেইন স্টেশন ২৩ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রইসুল কবির, ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইপিএবি) পরিচালক জেনারেল এমদাদুল আজিজুর রহমান, বিজিএমইএর সেক্রেটারি জেনারেল মেজর জেনারেল ড. মো. শাহেদুল ইসলাম (অব.) এবং বাংলাদেশ অ্যাগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বামা) সভাপতি কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office