রিমি কবিতা, বিশেষ প্রতিনিধি# | রবিবার, ০৯ মে ২০২১ | প্রিন্ট | ১৪২০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বাংলাদেশ ইলেক্ট্রিক ব্যবসায়ী সমিতির সংগঠন ‘জাগ্রত ব্যবসায়ী ও জনতা’ এর চেয়ারম্যান শিহাব রিফাত আলম এই করোনা ক্রান্তিলগ্নে ইলেক্ট্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের চরম ক্ষতি পূরণ এবং ইলেক্ট্রিক ব্যবসা কে চলমান রেখে দেশের অর্থনীতিতে যেন কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া না ঘটে, এসব বিবেচনা করে সরকারের কাছে একটি বিশেষ এবং নতুন ধারার চেকের আবেদন করেছেন। উক্ত সংগঠন এর পক্ষ থেকে তিনি এমন আবেদন করেছেন। এই নতুন ধারার চেকের নাম দেয়া হয়েছে “রেড চেক ” ব্যংকিং সেবা। এই বিষয়ে তিনি বলেন,
দেশে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার একটি মাধ্যম চেক। এই চেক কাউকে দিয়ে যদি প্রতারণা করা হয় দেশে খুব কড়া আইন আছে ।এন আই এক্টে মামলা করা যায়। তারমানে চেক একটি বড় সম্পদ। চেক একটি বড় দায় ভার। চেকের ডিজঅনার মামলা অনেক কঠিন মামলা।ব্যাংক একাউন্ট করতে একজন মানুষের সকল পরিচয়ের কাগজ পত্র প্রদান করতে হয়। এই কোভিড ১৯ মহামারীর সময় মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষকে এবং ক্ষুদ্র পুঁজির ব্যবসায়ীদেরকে সরাসরি চেক বন্ধক রেখে টাকা লোন দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে। এই লোন হবে সহজ শর্তহীন এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস এর মত।এটিকে “রেড চেক” বলছি ,কারণ এটি আপৎকালীন ব্যবহারের জন্য চেক। আসলে আমাদের প্রত্যেকটা চেক বই এর পাতার ভেতরের একটি করে হলেও “রেড চেক” থাকা দরকার। এই “রেড চেক” বন্ধক দিয়ে সরাসরি ব্যাংকের ওই শাখায় থেকে টাকা গ্রহণ করা যাবে একাউন্টে গচ্ছিত টাকা না থাকলেও। একজন মধ্যবিত্ত মানুষ যারা অ্যাকাউন্ট আছে সে ১০থেকে ২০ হাজার টাকা তার একাউন্টে টাকা না থাকলেও সরাসরি চেক জমা দিয়ে টাকা উত্তোলন করতে পারবে এবং এই চেকটি একটি বিশেষ “রেড চেক” হিসেবে গ্রহণ করবেন ব্যাংক,পরবর্তীতে সামান্য সুদ সহকারে নির্দিষ্ট সময় পরে যখন সেই ব্যক্তি টাকা পরিশোধ করতে পারবে তখন এই চেকটি অকার্যকর ঘোষণা করবে ব্যাংক।
একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একটি চেক নিয়ে ব্যাংকের কাউন্টারের যাবে এবং জমা দেবে। ব্যাংক সেটিকে রেড চেক হিসেবে গ্রহণ করে তাকে এক লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সরাসরি ঋণ দেবে। ব্যবসার ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ ফরম পূরণ করতে পারে ব্যাংক চাইলে। দেশে ব্যাংক ব্যবস্থায় বর্তমানে জামানতবিহীন অনেক রকম ঋণের প্রচলন আছে, যেমন এস এম ই ঋণ, ক্রেডিট কার্ড ঋণ, একইভাবে রেড চেক গ্রাহককে সে সুবিধা দেবে। দেশে অসংখ্য এনজিও বিনা জামানতে সাধারণ মানুষকে লোন দিয়ে থাকে, এবং সাধারন মানুষ অনেক বেশি উচ্চসুদে ঋণ পরিশোধ করে থাকে। ক্ষুদ্র ঋণের মধ্যে খুব কম ঋণ অনাদায়ী থাকে। তাই নিশ্চিতভাবে বলা যায় রেট চেকের টাকা ওরা দায়ী থাকবে না।
হয়তো অনেকের কাছে হাস্যকর লাগছে, কিন্তু অর্থনীতি এবং দেশীয় আইন বোঝেন এমন মানুষের কাছে বিষয়টি হাস্যকর হবে না।ব্যাংক চেক এবং টাকা দুটোই মূলত মূল্য পরিষদের প্রতিশ্রুতি পত্র। টাকা পণ্য বা সেবার মূল্যের সমকক্ষ, ফলে মানুষ মূল্য হিসেবে টাকা গ্রহণ করে। ব্যাংক চেকের বিনিময়ে টাকা গ্রহণ করা যায় ফলে ব্যাংক চেক মানুষ গ্রহণ করে। টাকা এবং ব্যাংক চেক দুটোই মূলত বিশ্বাসের ওপর টিকে থাকে। যদি আজ কোন একটি নোটকে সরকার বাতিল বলে ঘোষণা দেয়, সঙ্গে সঙ্গে সেই টাকার নোট কেউ আর গ্রহণ করবে না। সেই নোটের উপর মানুষের আস্থা চলে যাবে। তার মানে এই বিশ্বাসের পেছনে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। রাষ্ট্র যখন দায়িত্ব নেয় তখনই টাকা এবং চেক কাজ করে। কখনো কখনো টাকার চাইতেও শক্তিশালী চেক। চেক যদি তারা অর্থ পূরণ করতে না পারে তবে আইন তার কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
সরকারের বিধিনিষেধ এবং পাশাপাশি সকল আইন মেনে করোনা কালীন ক্রান্তিলগ্নে বিষয় টি বিবেচনার জন্য তিনি সরকারের কাছে বিশেষ অনুরোধ করেন। উক্ত সংগঠন এর পক্ষ থেকে তিনি বলেন, ব্যবসা বাঁচলে দেশ বাঁচবে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই দেশের স্বার্থে বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্বসহ বিবেচনা করবেন বলে তারা বিশ্বাসী।