শিরোনাম
মোংলা বন্দর হবে সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগ: ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ গ্রাউন্ড অপারেশন আধুনিকায়নে ২২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ইউএস-বাংলার মিডল্যান্ড ব্যাংকের সঙ্গে ব্র্যাক আইটির সমঝোতা স্মারক সই তৃতীয় প্রান্তিকে সিটি ব্যাংকের মুনাফায় ২০ প্রবৃদ্ধি তিন দিনের সফরে ঢাকায় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে রুল জারি সরানো হলো নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত বাণিজ্যে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা অব্যাহত রাখার আহ্বান বাংলাদেশের

সুপার টুয়েলভে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ ১৭১

অনলাইন ডেস্ক:   |   রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১   |   প্রিন্ট   |   ১৯৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

৫৭ রানের ইনিংস খেললেন মুশফিক ছবি: বিসিবি

সাকিব আল হাসান আজ বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। কিন্তু তাতে কি! আজ জ্বলে উঠল বাংলাদেশের অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যাট। নির্দিষ্ট করে বললে মোহাম্মদ নাঈম আর মুশফিকুর রহিম। নাঈমের আরও একটি ফিফটি, আর মুশফিকের ফর্মের ফেরা—দুইয়ে মিলে সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটিংটাও হলো দুর্দান্ত। শারজায় ২৬ বছর খেলতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭০ রান তুলে লঙ্কানদের বড় এক চ্যালেঞ্জই ছুঁড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।

শারজার উইকেট মিরপুরের মতো মনে হয়নি আজ। প্রথম থেকেই বল ব্যাটে এসেছে। কিন্তু টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে কি একটু ভুলই করে ফেলল শ্রীলঙ্কা। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ অবশ্য আগেই ব্যাটিং করতে চেয়েছিলেন। টস হারাটা তাই তাঁর জন্য বিশেষ কিছু হয়নি। বল ব্যাটে এল বলেই নাঈম আজ দুর্দান্ত খেললেন। খুব একটা দর্শনধারী ইনিংস নয়, কিন্তু খেললেন কার্যকর এক ইনিংস। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তুলে নিলেন তাঁর দ্বিতীয় ফিফটি। একদিক ধরে রেখে বাংলাদেশের ইনিংসকে দিয়েছেন দারুণ এক নির্ভরতা।

ব্যাটিংয়ে নেমে আজ ওপেনিং জুটিটা দারুণ হলো। ৪১ রান তুললেন দুই ওপেনার নাঈম আর লিটন। পাওয়ার প্লে’তে উঠল সবচেয়ে বেশি রান। লিটন অবশ্য নাঈমের মতো খেলতে পারেননি। যদিও প্রতিশ্রুতি ছিল ইনিংসটা কে বড় করার। কিন্তু পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারের পঞ্চম বলে কুমারার বলে ওয়াইডিশ মিড অফে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন লিটন। আউট হওয়ার আগে তিনি করেছেন ১৬ বলে ১৬।

লিটন ডাগ আউটে ফেরার পর সাকিব এসেছিলেন বড় ভরসার নাম হয়ে। কিন্তু ৭ বলে ১০ রানের বেশি করতে পারেননি। তবে দুটি চার মেরেছিলেন বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই। কিন্তু করুনারত্নের বলে বোল্ড হয়েছেন বেশ অদ্ভুতভাবেই। তাঁর ফেরাটা যদি অশনিসংকেত হয়ে থাকে, তাহলে সেটিকে ভুল প্রমাণ করতে বেশি সময় নেননি নাঈম আর মুশফিকুর রহিমের চতুর্থ উইকেট-জুটি। এ জুটিতে দুজন তুললেন ৫১ বলে ৭৩। বড় সংগ্রহের দিকে অনেকটা পথই বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন তাঁরা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরু থেকে একেবারেই ফর্মে ছিলেন না মুশফিকুর রহিম। কিন্তু তিনি আজ প্রমাণ করেছেন কতটা বড় মঞ্চের ক্রিকেটার তিনি। একেবারে ঠিক সময়েই জ্বলে উঠল তাঁর ব্যাট।

naim

নাঈম পেয়েছেন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি ছবি: বিসিবি

নাঈম ৫২ বলে ৬২ রান করেছেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চারের মার। তবে তাঁর আক্ষেপ থাকবে, ইনিংসের একেবারে শেষ পর্যন্ত থাকতে না পেরে। শেষ দিকে কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। বিনুরা ফার্নান্দোর বলে তুলে মারতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বল তিরিশ গজ পার করতে পারেননি। আকাশে উঠে যাওয়া তাঁর শটটি সহজেই লুফে নিয়েছেন ফার্নান্দো।

মুশফিককে নিয়ে আলাদা করেই বলতে হবে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর ব্যাটিং সমালোচিত হয়েছিল। ওমানের বিপক্ষে তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হলো আট নম্বরে। শেষবার মুশফিক কবে এত নিচে ব্যাটিং করেছেন, সেটি নিয়ে গবেষণা হতে পারে। পাপুয়া নিউগিনির মতো দুর্বল দলের বিপক্ষেও তাঁর ব্যাট হাসেনি। কিন্তু মুশফিক আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মনে করিয়ে দিলেন সেই চিরন্তন আপ্ত বাক্য, ‘ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট’। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অবশ্য প্রথম ফিফটি পেয়েছেন আজ তিনি। ২৯ ম্যাচ পর তাঁর ফিফটি পাওয়াটাও বেশ বিস্ময়কর একটা ব্যাপার। তবে গুরুত্বপূর্ণ দিনেই তিনি পেয়ে গেলেন ২০ ওভারের বিশ্বকাপে তাঁর প্রথম ফিফটিটি।মুশফিকের ব্যাট থেকে এসেছে ৩৭ বলে ৫৭। মেরেছেন ৫টি বাউন্ডারি ও দুটি ছক্কা। শারজা স্টেডিয়ামে উইকেটের দুই দিকের পরিধি কিছুটা ছোট। অভিজ্ঞ মুশফিক হোমওয়ার্কটা আজ ভালোই করে এসেছিলেন। ইনিংসের শুরুতে দুটি স্লগ সুইপে ছক্কা মেরেই বুঝিয়ে দেন ভালো কিছু করতেই মাঠে নেমেছেন তিনি। শেষ অবধি উইকেটে টিকে থেকে দলের সংগ্রহকে একটা পর্যায়ে নিয়ে গেছে তাঁর ইনিংসটিই।

নাঈমের বিদায়ের পর আফিফ হোসেন নেমেছিলেন। কিন্তু তিনি চাহিদা মেটাতে পারেননি। তবে মাহমুদউল্লাহ শেষ দিকে মুশফিকুর রহিমকে ভালোই সঙ্গ দিয়েছেন। ৫ বলে ১০ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। যে স্কুপ মারা নিয়ে মুশফিকের এত সমালোচনা, সেই স্কুপটি মেরেই দলের সংগ্রহ ১৭০ পার করে দেন তিনি। আজ নিশ্চয়ই এই স্কুপ নিয়ে মুশফিকের সমালোচনা কেউ করবেন না।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office