শিরোনাম
রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে কামরুল-জসিম প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয় শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না : তথ্যমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে কমবে মামলার জট : আইনমন্ত্রী মানবপাচার-অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছয় মাসে ১ হাজার ৩১৬ কোটি টাকার নিট লোকসানে ইসলামী ব্যাংক

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে হিজাব পরার অধিকার রক্ষায় যা বললেন সেই লাঞ্ছিত ছাত্রী

অনলাইন ডেস্ক:   |   বুধবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ১৯৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

উগ্রপন্থীদের একাই রুখে দিলেন হিজাব পরা তরুণী

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে হিজাব পরে যাওয়ার সময় একটি কলেজের সামনে গেরুয়া উত্তরীয় পরা একদল ছাত্রের কাছে উত্ত্যক্ত ও লাঞ্ছিত হন মুসলিম ছাত্রী মুসকান। তিনি বলেছেন, উত্ত্যক্তকারী ছাত্রদের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে চিন্তিত নন তিনি। হিজাব পরার অধিকার রক্ষার এই লড়াই চালিয়ে যাবেন।

গতকাল মঙ্গলবার কলেজের সামনে সহপাঠী ছাত্রদের হাতে মুসকানের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হয়েছে।

ভাইরাল ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, গেরুয়া উত্তরীয় পরা ছাত্ররা চিৎকার করে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে তাঁর দিকে এগিয়ে যেতে থাকলে মুসকানও ‘আল্লাহু আকবর’ বলে পাল্টা জবাব দিয়ে কলেজ ভবনের দিকে যেতে থাকেন। একপর্যায়ে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা ওই ছাত্রদের থেকে মুসকানকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যান।

মুসকান এনডিটিভিকে বলেছেন, ‘আমি চিন্তিত ছিলাম না। আমি যখন কলেজে প্রবেশ করতে যাচ্ছিলাম, তখনই তারা আমাকে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। কারণ, আমি বোরকা পরেছিলাম। তারা জয় শ্রীরাম বলে চিৎকার শুরু করে। আমিও আল্লাহু আকবর বলে চিৎকার করি। অধ্যক্ষ ও শিক্ষকেরা আমাকে সাহায্য ও রক্ষা করেছে।’

মুসকান বলেন, তিনি জানতেন, গেরুয়া উত্তরীয় পরে উত্ত্যক্তকারীদের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ ছিল তাঁর ওই কলেজের শিক্ষার্থী এবং বাকি সবাই ছিল বহিরাগত।

হিজাব পরার কারণে উত্ত্যক্ত ও লাঞ্ছনার শিকার ওই মুসলিম ছাত্রী বলেন, ‘আমাদের অগ্রাধিকার হলো শিক্ষা। কিন্তু তারা আমাদের শিক্ষাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’

এনডিটিভি বলছে, কর্ণাটকের কলেজগুলোতে একদিকে হিজাব পরা শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে গেরুয়া উত্তরীয় পরা মানুষের সংখ্যাও।

হিজাব পরার জন্য শ্রেণিকক্ষে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, গত মাসে কর্ণাটকের উদুপি জেলায় সরকারি গার্লস পিইউ কলেজের ছয় শিক্ষার্থী এমন অভিযোগ করার পর মুসলিম ছাত্রীরা প্রতিবাদ শুরু করেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের হিজাব নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেই রাজ্যটিতে হিজাব নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
এ নিয়ে ক্রমেই রাজ্যের উদুপি, মান্ডিয়া ও শিভামোগার মতো শহরের কলেজগুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নিয়ম অনুযায়ী হিজাব পরার অনুমতি থাকলেও স্কুল ও কলেজে হিজাব নিষিদ্ধের প্রতিবাদে মুসলিম ছাত্রীরা বিক্ষোভ শুরু করলে গেরুয়া উত্তরীয় পরে হিন্দুত্ববাদী স্লোগান দিয়ে অনেকে তাঁদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।

hejab1

ছবি: হিজাব নিষিদ্ধের প্রতিবাদে মুসলিম ছাত্রীরা বিক্ষোভ শুরু করলে অনেকে তাঁদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন

 

মুসকান বলেন, ‘গত সপ্তাহে এটা শুরু হয়েছে। আমরা বোরকা ও হিজাব পরে অভ্যস্ত। হিজাব পরেই ক্লাসে যেতাম। অধ্যক্ষ কখনোই আমাদের কিছু বলেননি। কিন্তু এটা শুরু করেছে বহিরাগতরা। অধ্যক্ষ আমাদের বোরকা না পরার পরামর্শ দিলে আমরা হিজাব পরেই আমাদের প্রতিবাদ চালাতে থাকি।’

হিন্দু বন্ধুরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে জানিয়ে মুসকান বলেন, ‘সকালের ওই ঘটনার পর সবাই বলছে, আমরা তোমার সঙ্গে আছি। নিরাপদ মনে হচ্ছে নিজেকে।’

হিজাব-বিতর্কের জেরে রাজ্যের সব স্কুল-কলেজ তিন দিন বন্ধ ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই স্বয়ং। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নিজেই টুইট করে এ ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘শান্তি ও সম্প্রীতির স্বার্থে’ এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগেও তিনি সবাইকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office