অনলাইন ডেস্ক: | শনিবার, ০২ এপ্রিল ২০২২ | প্রিন্ট | ১১২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
পাকিস্তানের বর্তমান প্রধামন্ত্রী ইমরান খানের পেশাদার ক্রিকেট ক্যারিয়ার গৌরবের সাথে শেষ হয়েছিল। কিন্তু তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ইমরান, যিনি ২০১৮ সাল থেকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, ৩ এপ্রিল একটি অনাস্থা ভোটের সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন। সে সম্ভবত ক্ষমতাচ্যুত হবেন। ইমরান একটি ‘বিদেশী-আমদানিকৃত ষড়যন্ত্র’কে দায়ী করেছেন। এবং তিনি দাবি করেছেন যে, রাশিয়া সফর করার জন্য পশ্চিমারা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়।
ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি পাকিস্তানের অস্থিতিশীলতাকে উস্কে দিয়েছে। এর মধ্যে ইমরান খান পাকিস্তানের জেনারেলদের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন হারিয়েছেন। পাকিস্তানি সেনা প্রধান, এবং মার্কিন মদদপুষ্ট একটি ঐক্যবদ্ধ বিরোধী শিবির সুযোগটি গ্রহণ করেছে, এবং এখন তারা ইমরান এবং তার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। ইমরানের খানের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পছন্দের তালিকার শীর্ষে যিনি রয়েছেন, তিনি হলেন শেহবাজ শরিফ। শেহবাজ নির্বাচনে জয়লাভ করলে, তা পাকিস্তানের দুর্নীতিতে নিমজ্জিত রাজনৈতিক বংশগুলিকে উচ্ছেদ করতে ইমরানের ব্যর্থতার নিদর্শন হবে। কিন্তু কে এই শেহবাজ শরিফ?
শেহবাজ শরিফ পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ভাই। ১৯৯০ সালে যখন নওয়াজ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তার প্রথম নির্বাচনে জয়ী হন, শেহবাজ দেশটির সাধারণ পরিষদে নির্বাচিত হন।
১৯৯৭ সালে তার ভাইয়ের প্রধানমন্ত্রীত্বের দ্বিতীয় মেয়াদে শেহবাজ পাকিস্তানের সবচেয়ে জনবহুল এবং শক্তিশালী প্রদেশ পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হন। কিন্তু দু’বছর পর যখন নওয়াজ তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধানকে প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করেন, তখন পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনুযায়ী উভয় ভাইই সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। তাদের কারারুদ্ধ করা হয় এবং তারপর ২০০৭ সাল পর্যন্ত সউদী আরবে নির্বাসিত করা হয়।
২০০৭ সালে দেশে আসার পর শরীফ ভ্রাতৃদ্বয় তাদের পূর্বের পদে আসীন হন। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে, শেহবাজ নতুন রাস্তা এবং মেট্রো সিস্টেম তৈরির ওছিলাতে অঢেল সম্পদের মালিক হন। এবং যখন নওয়াজকে আবারও ২০১৭ সালে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয় (এইবার দুর্নীতির অভিযোগে), শেহবাজই তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য নির্বাচন করেছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে শেহবাজ ইমরানের কাছে হেরে যান। তারপর থেকে তিনি পাকিস্তানের বিরোধী দলের নেতা এবং পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভাইয়ের মতোই শেহবাজও স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত। তার ছেলে হামজা শেহবাজ পাঞ্জাবের বিরোধী দলের নেতা এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারেন। ২০২০ সালে শেহবাজ এবং হামজা উভয়কেই অর্থ-পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, এবং ব্রিটেন পরিবারটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি জব্দ করেছিল। ব্রিটেনের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির শরীফদের বিরুদ্ধে প্রমাণ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হলে ব্রিটেন মামলাটি বাতিল করে। কিন্তু এটি এখন একটি খোলা তথ্য যে, অতি সম্প্রতি আসন্ন অনাস্থা ভোটকে সামনে রেখে পশ্চিমা মদদপুষ্ট শেহবাজ এবং হামজার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বারবার স্থগিত করা হয়েছে।
পাকিস্তানের কোনো প্রধানমন্ত্রীই পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। এঁটা তাদের ভুলে গেলে চলবে না। ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হলে তাদেরও একই পরিণতি মুখোমুখি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।