খেলা ডেস্ক | বুধবার, ২৩ নভেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট | ৮১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহীত ছবি
এশিয়ায় প্রথম ফিফা বিশ্বকাপের আসর বসেছিল ২০০২ সালে। স্বাগতিক জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে নিয়ে উচ্ছ্বাস ছিল না। বরং স্বাগতিক হওয়ার মান রক্ষা করাই বড় চ্যালেঞ্জ ছিল তাদের জন্য। ওই বিশ্বকাপে স্বাগতিক দক্ষিণ কোরিয়া চমক দিয়েছিল। এশিয়ার প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে খেলার কীর্তি গড়েছিল।
এশিয়ার নিকট প্রতিবেশি তুরস্কও দিয়েছিল চমক। তুর্কিরা সেমিফাইনালে হেরেছিল শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে। আফ্রিকার দল সেনেগাল শুধু কোয়ার্টারে খেলেনি গ্রুপ পর্বে হারিয়েছিল চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসা ফ্রান্সকে। এবার আবার এশিয়ায় ফিরেছে বিশ্বকাপ। আরব দেশের প্রথম বিশ্বকাপে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এশিয়ার মান রাখতে পারবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল।
যার উত্তর এখনও পুরোপুরি মেলেনি। গ্রুপ পর্বের একটি করে ম্যাচও মাঠে গড়ায়নি। তারা নকআউটে যেতে পারবে কিনা তাও নিশ্চিত নয়। তবে এশিয়ার দুই দেশ জাপান ও সৌদি আরব ফুটবল বিশ্বকে বিস্ময় উপহার দিয়েছে। কাতারের নিকট প্রতিবেশি সৌদি আরব মঙ্গলবার হারিয়ে দিয়েছে ফেবারিট হিসেবে বিশ্বমঞ্চে আসা আর্জেন্টিনাকে।
আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে দেওয়া গোল সৌদির। ছবি: ফাইল
বিশ্ব মিডিয়ার কাছে যা ‘অঘটন’। বুধবার নীল সামুরাই খ্যাত এশিয়ার সেরা দল জাপান স্তব্ধ করে দিয়েছে জার্মানিকে। জার্মান যন্ত্র বিকল করে দিয়েছে তারা। বিশ্ব মিডিয়ার চোখে বিশেষ করে ইউরোপের কাছে এটাও ‘অঘটন’। কোন কোন মিডিয়া অবশ্য আগ বাড়িয়ে পরপর বড় দুই দলের এশিয়ার প্রতিনিধিদের কাছে হারকে বিশ্বকাপের ইতিহাসের ‘সর্বকালের সেরা অঘটন’ বলছে।
অবশ্য তাদের এই সর্বকালের সেরা অঘটন বলার পেছনে কারণও আছে। সেই ১৯৫০ আসর থেকেই টুকটাক এমন অঘটন একটা করে ঘটছে। ১৯৫০ এর আসরে যেমন ইংল্যান্ড হেরেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। ১৯৬৬ আসরে উত্তর আমেরিকার মতো দল হারিয়ে দিয়েছিল ইতালিকে। ১৯৯০ আসরে আর্জেন্টিনা হেরেছিল ক্যামেরুনের কাছে।
বিশ্বকাপের ১৯৯৪ আসর ছাড়া বড় দুই অঘটনের ঘটনা ঘটেনি বলা চলে। ওই আসরে জার্মানিকে হারিয়েছিল বুলগেরিয়া, ইতালি হেরেছিল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। এবার সৌদি হারাল মেসির আর্জেন্টিনাকে। জাপান জয় তুলে নিল জার্মানির বিপক্ষে। এই দুই জয়ের মধ্যেই যেন এশিয়ার ফুটবল জাগরণের গল্প মিশে আছে। এশিয়ার প্রতিনিধিরা এখন বলতেই পারে- চেনা কন্ডিশনে নিয়মিত খেলা হলে তারাও বড় দলগুলোকে পাল্টা দিতে পারে।