আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | প্রিন্ট | ৯৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহীত ছবি
ইউক্রেনে রুশ হামলার এক বছর হতে আর মাত্র তিন দিন বাকি। এমন সময় অঘোষিত ও ঝটিকা সফরে ইউক্রেনে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যদিও পোল্যান্ডে তিন দিনের পূর্বঘোষিত সফরের কথা ছিল তার; কিন্তু গোপনে ট্রেনে চড়ে চলে গিয়েছেন কিয়েভে।
সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কয়েক ঘণ্টার এ সফরে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়াসহ ইউক্রেনের জন্য ৫০ কোটি ডলার সমমূল্যের অস্ত্র সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। খবর বিবিসির
প্রথমেই কিয়েভের সেইন্ট মিশেল ক্যাথাড্রেলে যান বাইডেন ও জেলেনস্কি। কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে একসঙ্গে বের হন তারা। ঠিক তখনই কিয়েভের আকাশে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। তবে কোনো রুশ বিমান কিংবা মিশাইল হামলা হয়নি।
এরপর দেশটির প্রেসিডেন্টের ভবন পরিদর্শন করে গেস্টবুকে স্বাক্ষর করেন জো বাইডেন। এতে একটি প্রশংসা বার্তাও লিখেছেন তিনি। এ সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন বাইডেন।
আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের সময় ইউক্রেনের নাগরিকদের প্রশংসা করেন জো বাইডেন। বলেন, সামরিক অভিজ্ঞতা না থাকার পরও এ দেশের মানুষ যুদ্ধে নেমেছেন। রাশিয়ার উদ্দেশ্যে বাইডেন বলেন, যুদ্ধে বিজয় অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে পুতিন।
কিয়েভে গিয়ে যে বার্তা দিলেন বাইডেন
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে নিয়ে করা সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, পুতিন মনে করছিলেন ইউক্রেন দুর্বল এবং আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব না। তিনি ভরসা রাখছিলেন ন্যাটোকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে আমরা ব্যর্থ হব, তিনি ভেবেছিলেন আমরা ইউক্রেনের পাশে থাকব না।
বাইডেন বলেন, পুতিন ভেবেছিলেন তিনি আমাদের ছাড়িয়ে যেতে পারবেন। আমার মনে হয় না এখন তিনি এমন কিছু ভাবছেন। তিনি একেবারে ভুল ছিলেন। এক বছর পর এর প্রমাণ এই কক্ষে রয়েছে। আমরা এখানে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছি।
ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, কিয়েভ সফরে আসা বাইডেনের সঙ্গে দূরপাল্লার অস্ত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।
বাইডেনের সফর নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে হোয়াইট হাউস। সেখানে বলা হয়েছে, এ সফরের উদ্দেশ্য ইউক্রেনের গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অটল প্রতিশ্রুতি পুনর্নিশ্চিত করা। এক বছর আগে রুশ প্রধান পুতিন যখন আগ্রাসন শুরু করেন, তিনি ভেবেছিলেন ইউক্রেন দুর্বল এবং পশ্চিম বিভক্ত। আমাদেরও তিনি ছাড়িয়ে যাবেন বলে ভেবেছিলেন পুতিন, যা তার মারাত্মক ভুল।
সফরের একপর্যায়ে ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডির সঙ্গেও দেখা করেছেন বাইডেন। সফর শেষে পোল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট বাইডেন পোল্যান্ড থেকে ট্রেনে সীমান্ত পেরিয়ে ইউক্রেন সফরে যান। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এই সফর বেশ গোপন রাখা হয়।
কিয়েভে গিয়ে যে বার্তা দিলেন বাইডেন
বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে, শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও তার স্ত্রী জিল এক রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেতে গিয়েছিলেন। এরপর কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই প্রেসিডেন্ট বাইডেন ওয়াশিংটন ত্যাগ করেন। পূর্ব ইউরোপ সফরের সময় প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইউক্রেনও সফর করতে পারেন, এমন কথা এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা অস্বীকার করেছিলেন।
নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ‘হোয়াইট হাউজ রোববার রাতে প্রেসিডেন্টের যে কর্মসূচী প্রকাশ করে, তাতে দেখা যায় সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটনে থাকবেন, এরপর তিনি সন্ধ্যায় ওয়ারশ’র উদ্দেশে রওনা দেবেন। আসলে তিনি ততক্ষণে সেখানে চলে গেছেন।’
আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রুশ হামলার এক বছর হতে চলেছে। এ উপলক্ষ্যেই ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ডে সফর করছেন বাইডেন। এদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউক্রেন সফরের কথা আগেই রাশিয়াকে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।