অর্থনীতি ডেস্ক | সোমবার, ২৪ অক্টোবর ২০২২ | প্রিন্ট | ৯৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহিত ছবি
বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি আমদানি করে চীন থেকে। ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশটি থেকে এক হাজার ৯৩৫ কোটি ডলরের পণ্য আমদানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের মোট আমদানির ২৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ এসেছে চীন থেকে। অথচ দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৬৮ কোটি ডলারের, যা মোট রপ্তানির ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ ছিল চীনে।
চীনের সঙ্গে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উপায় নির্ধারণে গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ-চায়না চেম্বারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক চীনা মুদ্রায় আমদানি-রপ্তানির সুযোগ দিলেও বেশিরভাগ ব্যাংক ইউয়ানে এলসি খুলতে চাইছে না। চীনে শুল্কমুক্ত সুবিধা এবং দেশটিতে বাংলাদেশের পণ্য প্রচারে সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য পরিস্থিতির পাঁচ বছরের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ মোট ৮ হাজার ২৫০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। এর মধ্যে শুধু চীন থেকে আমদানি ছিল এক হাজার ৯৩৫ কোটি ডলারের পণ্য। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬ হাজার ৬৮ কোটি ডলারের আমদানির মধ্যে চীন থেকে ছিল এক হাজার ২৯৩ কোটি ডলার, যা মোট আমদানির ২১ দশমিক ৩০ শতাংশ।
২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের ৫ হাজার ২০৮ কোটি ডলারের রপ্তানির মধ্যে চীন থেকে এসেছে মাত্র ৬৮ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে তিন হাজার ৮৭৬ কোটি ডলারের মধ্যে যেখানে চীনে রপ্তানি ছিল ৬৮ কোটি ৭ লাখ ডলার। গত অর্থবছর চীনে রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ৭ লাখ ডলার। গত অর্থবছরে দেশের সামগ্রিক রপ্তানিতে যেখানে এক হাজার ৩২২ কোটি ডলার বা ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৫ সেপ্টেম্বর এক নির্দেশনার মাধ্যমে চীনের মুদ্রা ইউয়ানে এলসি খোলার অনুমতি দেয়। এর আগে ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ক্লিয়ারিং অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে অধিকাংশ ব্যাংক চীনের মুদ্রায় এলসি খুলতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।