শিরোনাম
সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিমান ও পর্যটন খাতে গতি আনতে চান নতুন মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু চাঁদাবাজদের সঙ্গে পুলিশ জড়িত থাকলে তাদের তালিকাও করছি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে নতুন করে গড়ে তোলা হবে : মঈন খান মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হলেন জহির উদ্দিন স্বপন প্রত্যেকটি এনার্জি সেক্টরে তিন মাসের রিজার্ভ নিশ্চয়তায় কাজ করছে সরকার বাবা-মায়ের পরিচয় বদলে পাসপোর্ট, এনআইডি ও কাবিনে কথিত জাল স্বাক্ষর: ফাহিমুল ইসলাম ও স্ত্রী সুমি বেগমের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে ১ হাজার ৭৬৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে জোর

ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা।

শনিবার (২২ আগস্ট) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি; পরিপ্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।

রাজধানীর ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিনারে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার এবং সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। স্থানীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ সম্ভব নয়। বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা যত গভীরই হোক, সেগুলো দূর করা হবে।

তিনি বলেন, ডিরেগুলেশন বলা যতটা সহজ, বাস্তবায়ন ততটাই কঠিন। তবে সরকার এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ব্যবসায়ীদের সমস্যা চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া ও তা বাস্তবায়নের জন্য সরকার একটি ওয়েবসাইট তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিদ্যমান সংকট একদিনে সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এর জন্য সময় প্রয়োজন। জ্বালানি খাতে তিন মাসের রিজার্ভ নিশ্চিত করার জন্য সরকার কাজ করছে।

 

তিনি আরও জানান, এরই মধ্যে সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারলে উদ্যোক্তারা ঋণ সহায়তা পাবেন। এক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য হবে না।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ নামে একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে আমির খসরু বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি, দক্ষতা বৃদ্ধি, পণ্যের ডিজাইন ও বাজারজাতকরণে সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে গণতান্ত্রিক অর্থনীতির দিকে দেশকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে। ট্যাক্স-জিডিপির অনুপাত বাড়ানো না গেলে সরকারের কোনো উদ্যোগই সফল হবে না। এক্ষেত্রে অটোমেশনের কোনো বিকল্প নেই।

 

অর্থায়নের জন্য প্রচলিত উৎসের বাইরে বিকল্প ফাইন্যান্সিং বাড়াতে পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিগগির এর সুফল পাওয়া যাবে। পাশাপাশি বেশ কিছু বন্ড চালুর বিষয়ও সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে জ্বালানি বিল পরিশোধে সরকারের অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে বলেও জানান তিনি। সব ধরনের জ্বালানি উৎসের মধ্যে সমন্বয় সাধন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে সৌরশক্তির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাজেটে এ খাতে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৩ দশমিক ১ শতাংশ ধরা হয়েছে। বাণিজ্য বাধা, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং পণ্য পরিবহন ব্যয় দ্বিগুণ হওয়ার কারণে বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

 

চলতি অর্থবছরের বাজেটে কোম্পানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ৪৮ ঘণ্টায় সম্পন্ন করা, চামড়া, পাদুকা ও হোম টেক্সটাইল খাতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা তিন বছর বাড়ানো, রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে ১০টি নতুন খাতে শুল্কমুক্ত সুবিধা, কর ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া দ্রুতকরণসহ বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তাসকীন আহমেদ বলেন, দীর্ঘসময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের নিম্নগতি বিনিয়োগের জন্য উদ্বেগের বিষয়। সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ হলেও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ মাত্র ৫ শতাংশে রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকনির্ভরতা কমাতে পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করে রপ্তানিতে লিডটাইম কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। দেশের লজিস্টিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় বড় বিনিয়োগ আকর্ষণেরও আহ্বান জানান ডিসিসিআই সভাপতি।

 

তিনি বলেন, সিএমএসএমই খাতে প্রকৃত ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা ২৫ শতাংশ হলেও তা ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে আটকে আছে। ব্যবসার খরচ বেড়ে যাওয়ায় এ খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে ২৪ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় প্রচলিত জামানতভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে ডিজিটাল স্কোরিংয়ের মাধ্যমে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো এবং সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির জন্য বিশেষ তহবিল গঠন প্রয়োজন।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থায় বিনিয়োগে স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাবও করেন তিনি। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনা, জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারের আহ্বান জানান।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অর্থনীতির ক্ষেত্রে দেশ একটি যুগসন্ধিক্ষণে রয়েছে। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গতি আসবে, অন্যথায় পিছিয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

 

অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে হয়রানি একটি নেতিবাচক কাঠামোতে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে সংস্কার কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না। করজাল সম্প্রসারণে হয়রানি কমানোর কোনো বিকল্প নেই এবং এ ক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি রেজিলিয়েন্ট হলেও কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান তৈরিতে ক্রমাগত পিছিয়ে যাচ্ছে। খেলাপি ঋণ কমাতে কাঠামোগত সমস্যা দূর করার পাশাপাশি এসএমই খাতে ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন তদারকিতে ‘ইকোনমিক রিফর্ম এক্সিলারেশন ইউনিট’ গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।

আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতি এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় নামেনি। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ দীর্ঘদিনের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং শিল্পখাতের সক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি উচ্চ সুদহার, উৎপাদন ও আমদানি ব্যয়, বিনিময় হার এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ব্যবসার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।

দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে নিতে বেসরকারি খাতের আস্থা, সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য ও বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার বলেন, দেশের নীতিমালা ও বাস্তবায়নের মধ্যে বড় ধরনের ফারাক রয়েছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। রপ্তানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণে নীতি উদার হলেও আমদানির ক্ষেত্রে উচ্চ শুল্কের কারণে স্থানীয়ভাবে পণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়ছে।

এলডিসি উত্তরণের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এডিপি বাস্তবায়ন করতে হলে কর আহরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা খুবই কম।

তিনি বলেন, বাজেটে ভালো উদ্যোগ থাকলেও মুদ্রানীতিতে তার প্রতিফলন নেই। ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুদ্রানীতিতে সংস্কার জরুরি। জনগণের কাছ থেকে আদায় করা করের পুরোটা কোষাগারে জমা না হওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিদেশি ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের ক্ষেত্রেও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন এ অর্থনীতিবিদ।

আলোচনায় বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সীমিন রহমান এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বক্তব্য দেন।

ড. এ কে এনামুল হক বলেন, রেমিট্যান্সনির্ভর অর্থনীতির জন্য দীর্ঘসময় উচ্চ মূল্যস্ফীতি উদ্বেগের বিষয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা কঠিন। এ কারণে ব্যাংকের তারল্য বাড়ানোর ওপর নজর দিতে হবে। পাশাপাশি বাণিজ্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

সীমিন রহমান বলেন, বাজেটে ব্যবসাবান্ধব নীতি থাকলেও বেসরকারি খাতে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি। উচ্চ সুদহার ও মূল্যস্ফীতি, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এবং আর্থিক খাত থেকে সরকারের বেশি ঋণ নেওয়া এর অন্যতম কারণ। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা।

শিল্পের কাঁচামালের দাম বেশি থাকায় উৎপাদন কমছে উল্লেখ করে তিনি বন্দর ও কাস্টমসের লজিস্টিক সেবার দক্ষতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে এবং মুদ্রানীতি ও বাজেটের মধ্যে কাঠামোগত সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। কর ব্যবস্থাপনার ডিজিটালাইজেশন ও দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। জ্বালানি সরবরাহসহ ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে সুদহার কমালেও স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় আসবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মুক্ত আলোচনায় ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি হোসনে খালেদ রিয়েল এস্টেট খাতকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান। সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান দেশের কয়লার মজুত ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, লজিস্টিক খাতের জন্য একক সংস্থা গঠন এবং সব করদাতাকে ট্যাক্স কার্ড দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ের জন্য অর্থনৈতিক সংস্কার ও প্রস্তুতির ওপর জোর দেন সাবেক সভাপতি বেনজীর আহমেদ। সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, দেশের মোট রাজস্বের ৯৬ শতাংশ ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আসে। তাই বিদ্যমান করদাতাদের ওপর চাপ না বাড়িয়ে করজাল সম্প্রসারণ এবং কর ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে এসএমইদের জন্য পৃথক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দের প্রস্তাব দেন।

অনুষ্ঠানে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যসহ সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office