শিরোনাম
শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে কামরুল-জসিম প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয় শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না : তথ্যমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে কমবে মামলার জট : আইনমন্ত্রী মানবপাচার-অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভ্যাট কমানোসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাজুসের ১২ দফা দাবি

অর্থনীতি ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ৯৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ভ্যাট কমানোসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাজুসের ১২ দফা দাবি

সংগৃহীত ছবি

দেশের জুয়েলারি খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সহায়তাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- আসছে বাজেটে জুয়েলারি পণ্য বিক্রির ওপর আরোপিত ভ্যাট ২ শতাংশ কমানো ও অপরিশোধিত আকরিক সোনায় আরোপিত সিডি ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১ শতাংশ করা। এছাড়া সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আরও ১০ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (৪এপ্রিল) রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিতে বাজুস কার্যালয়ে ২০২৩-২৪ অর্থ-বছরের বাজেট উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাজুস প্রেসিডেন্ট সায়েম সোবহান আনভীর, সহ-সভাপতি ও স্ট্যাডিং কমিটি অন ট্যারিফ অ্যান্ড ট্যাক্সেশনের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, বাজুসের সহ-সভাপতি রিপনুল হাসান, উপদেষ্টা রুহুল আমিন রাসেল, সহ-সম্পাদক ও স্ট্যাডিং কমিটি অন ট্যারিফ অ্যান্ড ট্যাক্সেশনের ভাইস চেয়ারম্যান সমিত ঘোষ অপু ও স্ট্যাডিং কমিটি অন ট্যারিফ অ্যান্ড ট্যাক্সেশনের সদস্য সচিব পবন কুমার আগরওয়াল।

বাজুসের উপদেষ্টা রুহুল আমিন রাসেলের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাজুসের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা নির্মাণ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০৪১ সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাজুসের বর্তমান নেতৃত্ব বদ্ধপরিকর। বাজুস মনে করছে- আগামী দিনে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জাগরণ তুলবে জুয়েলারি শিল্প। বর্তমানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ্যভাবে জুয়েলারি শিল্পে আনুমানিক ৪৪ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। আগামীতে এই শিল্পে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সম্ভব।

আরও বলা হয়, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে জুয়েলারি শিল্পে ভ্যালু অ্যাডিশন করে সোনার অলংকার রপ্তানি সম্ভব। দুবাই যেমন সোনার ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, তেমনি বাংলাদেশেও এই সম্ভাবনা রয়েছে। সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন ছিল জাতির পিতার। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে জুয়েলারি শিল্পে করমুক্ত সুবিধা চাই। সত্যিকারের সোনার বাংলাদেশ গড়তে জুয়েলারি শিল্পে সব সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই।

দেশের প্রাচীন শিল্পের মধ্যে অন্যতম জুয়েলারি খাত। বর্তমানে চরম সংকটে দিশেহারা এই জুয়েলারি শিল্পের জন্য প্রয়োজন সরকারের নীতি সহায়তা। অপার সম্ভাবনা থাকার পরও সুষ্ঠু রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও নীতি সহায়তার অভাবে জুয়েলারি শিল্প এখন হুমকির মুখে পড়েছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের ২০২২ সালের প্রতিবেদন মোতাবেক বিশ্ব বাজারে সোনার চাহিদা ছিল ৪ হাজার ৭৪০ টন। এর মধ্যে সোনার অলংকারের চাহিদা ২ হাজার ১৮৯.৮ টন।

বাংলাদেশে সোনার বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৪০ টন। তবে প্রকৃত চাহিদা নিরূপণে সরকারের সমীক্ষা প্রয়োজন। বৈধভাবে সোনার চাহিদা পূরণ করার ক্ষেত্রে বড় বাধা কাঁচামালের উচ্চমূল্য, অতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয় ও শিল্প সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির উচ্চ আমদানি শুল্ক। বর্তমানে জুয়েলারি শিল্পের প্রায় সব ধরনের পণ্য ও যন্ত্রপাতির আমদানি শুল্ক ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ। যা স্থানীয় অন্যান্য শিল্পে আরোপিত শুল্কের চেয়ে অনেক বেশি। এতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ৫ শতাংশ হারে উচ্চ ভ্যাট হার ও অতিরিক্ত উৎপাদন খরচের কারণে ভোক্তা পর্যায়ে আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে দামের পার্থক্য হচ্ছে। এতে ক্রেতা হারাচ্ছেন জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা। আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ছোট জুয়েলারি ব্যবসায়ী।

বাজুস মনে করে- বিশ্ববাজারে বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতায় সক্ষম করতে জুয়েলারি খাতে আরোপিত শুল্ক কর এবং ভ্যাট হার কমানোর পাশাপাশি আর্থিক প্রণোদনা দিতে হবে। এতে যেমন সরকারের বৈদেশিক আয় আসবে তেমনি বাড়বে রাজস্ব আয়। এছাড়া বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের আরেকটি খাত তৈরি হবে।

বাজুসের ১২ দফা প্রস্তাবগুলো মধ্যে রয়েছে-

বর্তমানে জুয়েলারি ব্যবসার ক্ষেত্রে সোনা, সোনার অলংকার, রূপা বা রূপার অলংকার বিক্রির ক্ষেত্রে আরোপিত ভ্যাট হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা। সারাদেশে ৪০ হাজার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে ইএফডি বসানো হলে বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আয় সম্ভব হবে। এতে ব্যবসার ক্ষেত্রেও সমতা আসবে। এক্ষেত্রে বাজুসের স্পষ্ট বক্তব্য হলো- ইএফডি মেশিন সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে না বসিয়ে কাউকে হয়রানি করা যাবে না।

বর্তমানে অপরিশোধিত আকরিক সোনার ক্ষেত্রে আরোপিত সিডি ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে আমদানি শুল্ক শর্ত সাপেক্ষে ১ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছে বাজুস। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করার উদ্দেশ্যে আইআরসি ধারী ও ভ্যাট কমপ্লায়েন্ট শিল্পের ক্ষেত্রে এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে জুয়েলারি শিল্পে শৃঙ্খলা আসবে। এটি একটি আমদানি বিকল্প শিল্প হিসেবে পরিণত হবে। সোনা চোরাচালান বন্ধ হবে।

দেশের জুয়েলারি শিল্পের চাহিদা পূরণ করার স্বার্থে গোল্ড রিফাইনারি শিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছে। এটি একটি ভ্যাট নিবন্ধনকারী শিল্প এবং একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল শিল্প। শুধু দেশের চাহিদা নয় বিদেশে রপ্তানি করারও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এজন্য অপরিশোধিত আকরিক সোনা আমদানির ক্ষেত্রে শর্ত সাপেক্ষে শুল্ক অব্যাহতি দেওয়া হলে সোনা চোরাচালান বন্ধ হবে। সরকার অধিক রাজস্ব আহরণ করতে পারবে।

আংশিক পরিশোধিত সোনার ক্ষেত্রে সিডি ১০ শতাংশের পরিবর্তে আইআরসি ধারী ও ভ্যাট কমপ্লায়েন্ট শিল্পের জন্য শুল্ক হার ৫ শতাংশ করা হোক।

বাংলাদেশের রপ্তানি শিল্প পুরোটাই দাঁড়িয়ে আছে তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর। কিন্তু একটি শিল্প নির্ভর রপ্তানি খাত কতোটুকু ভয়াবহ, তা ভেনিজুয়েলার আর্থিক ধসের দিকে তাকালেই অনুমান করা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, এসডিজি অর্জনে আমাদের রপ্তানি শিল্পকে বহুমুখী করার উদ্দেশ্যে জুয়েলারি শিল্পের প্রধান কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক সহায়তা প্রদান জরুরি প্রয়োজন। যা আগামী ১০ বছরে রপ্তানি নির্ভর শিল্প প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি খাতে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ অবদান রাখবে বলে আশা করছি।

হীরা কাটিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণের উদ্দেশ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান দ্বারা আমদানিকৃত রাফ ডায়মন্ডে সিডি ১০ শতাংশ ও এসডি ১০ শতাংশ প্রস্তাবিত শুল্ক হার নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছে বাজুস।

বৈধ পথে মসৃণ হীরা আমদানিতে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান দ্বারা আমদানিকৃত মসৃণ হীরা ৪০ শতাংশ ভ্যালু অ্যাডিসন করার শর্তে এসডি ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।

সোনার অলংকার প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে আমদানিকৃত কাঁচামাল ও মেশিনারিজের ক্ষেত্রে সব ধরনের শুল্ক কর অব্যাহতি প্রদানসহ ১০ বছরের জন্য কর অবকাশ বা ট্যাক্স হলিডে প্রদানের প্রস্তাব করেছে বাজুস।

বৈধভাবে সোনার বার, সোনার অলংকার ও সোনার কয়েন রপ্তানি উৎসাহিত করতে কমপক্ষে ২০ শতাংশ ভ্যালু অ্যাডিসন করার শর্তে রপ্তানিকারকদের মোট ভ্যালু অ্যাডিসনের ৫০ শতাংশ হারে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করছি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office