অনলাইন ডেস্ক: | মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১ | প্রিন্ট | ১২৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সমীর বানখেড়ে ছবি: এএনআই
বলিউড তারকা শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানের বিরুদ্ধে তদন্তকারী ও মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) কর্মকর্তা সমীর বানখেড়ে দিল্লি পৌঁছেছেন। মানুষকে একের পর এক ভুয়া মামলায় ফাঁসানো ও অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক চলার মধ্যে স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে পৌঁছান তিনি। তবে বানখেড়ের দাবি, তাঁকে দিল্লিতে কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়নি। কিছু কাজের জন্যই তিনি রাজধানীতে এসেছেন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বানখেড়ে আরও বলেছেন, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে শতভাগ সহযোগিতা করবেন তিনি।
বানখেড়ে এমন সময়ে দিল্লি ভ্রমণ করছেন, যখন কিনা মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা নবাব মালিকের সঙ্গে তাঁর বাগ্যুদ্ধ চলছে। নবাব মালিক অভিযোগ তুলেছেন, জাহাজ থেকে মাদক জব্দ করার মামলাটি ‘ভুয়া’। তা ছাড়া বিজেপি ও এনসিবি মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া মাদক মামলার এক সাক্ষীর জবানবন্দিকে ঘিরেও বিতর্কের মধ্যে রয়েছেন বানখেড়ে। ওই সাক্ষী তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন।
গতকাল নবাব মালিক এনসিবি কর্মকর্তা বানখেড়ের জন্মসংক্রান্ত একটি নথির ছবি টুইটারে পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘জালিয়াতির শুরুটা এখান থেকেই।’
নবাব মালিককে পাল্টা আক্রমণ করে একটি বিবৃতি দিয়েছেন বানখেড়ে। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আমার ব্যক্তিগত নথি প্রকাশ করা মানহানিকর এবং আমার পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর অমূলক হস্তক্ষেপ। আমার, পরিবারের, বাবার এবং প্রয়াত মায়ের সম্মানহানির উদ্দেশ্যে এ কাজ করা হয়েছে।’
মন্ত্রী নবাব মালিকের কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁর পরিবার প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে আছে বলেও দাবি করেন বানখেড়ে।
জাহাজ থেকে মাদকদ্রব্য জব্দ করার মামলার বিচারে গঠিত বিশেষ আদালতে হলফনামা জমা দিয়েছেন বানখেড়ে। তিনি লিখেছেন, ‘আমাকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিশেষ করে স্বনামধন্য এক রাজনীতিবিদ এ কাজ করেছেন। মাদক মামলায় সমীর খান নামের ওই নেতার এক আত্মীয়কে গ্রেপ্তারের পর থেকে এটা শুরু হয়েছে। তখন থেকে আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকারে পরিণত করা হয়েছে। আমাকে গ্রেপ্তার ও চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে মুম্বাই পুলিশ প্রধানের কাছে লেখা এক চিঠিতে বানখেড়ে অভিযোগ করেছেন, উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চাকরিচ্যুত করার ও কারাগারে পাঠানোর হুমকি পেয়েছেন তিনি। আশঙ্কা জানিয়েছেন, বাজে উদ্দেশ্য নিয়ে তাকে ফাঁসানো হতে পারে। আর এ ধরনের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিতে মুম্বাই পুলিশ প্রধানের প্রতি অনুরোধ জানান বানখেড়ে।
এ ধরনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চলার মধ্যে সোমবার দিল্লি পৌঁছান বানখেড়ে। তবে সাংবাদিকদের তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো সমনের হাজিরা দিতে দিল্লি যাননি তিনি।
এদিকে বানখেড়ের তদন্তাধীন মাদক মামলায় প্রভাকর সেইল নামের এক সাক্ষী দাবি করেছেন, ৩ অক্টোবর রাতে সন্দেহভাজন বেসরকারি তদন্তকারী কেপি গোসাভি ও স্যাম ডিসুজা নামের এক ব্যক্তির মধ্যে ফোনে হওয়া কথোপকথন শুনেছেন তিনি।
হলফনামায় প্রভাকর দাবি করেছেন, প্রথমে ২৫ কোটি রুপি ঘুষ চাওয়া হলেও পরে ১৮ কোটি রুপিতে গোটা মামলা রফা করার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছিল। এর মধ্যে আট কোটি রুপি এনসিবির কর্মকর্তা সমীর বানখেড়েকে দেওয়ার কথা হয়েছিল। জেল হেফাজতে শাহরুখপুত্র আরিয়ানের সঙ্গে সেলফি তুলে আলোচিত হয়েছিলেন কেপি গোসাভি। এর পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন তিনি। প্রভাকর সেইল হলেন এই কেপি গোসাভির ব্যক্তিগত দেহরক্ষী। মাদকসংশ্লিষ্ট ওই মামলায় ৯ সাক্ষীর একজন তিনি।
হলফনামায় কেপি গোসাভির ভাষ্য হুবহু তুলে ধরেছেন প্রভাকর। ডিসুজাকে গোসাভি বলছিলেন, ‘আমি শাহরুখ খানের নাম শুনেছি। আমাদের শাহরুখ খানের ম্যানেজারের কাছ থেকে ২৫ কোটি রুপি চাইতে হবে, ১৮ কোটিতে এটি রফা করা যাবে। সমীর বানখেড়েকে আট কোটি দিয়ে বাকি টাকা ভাগ করে নেব।’
এনসিবি কর্তৃপক্ষ অবশ্য বানখেড়ের পক্ষে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে। তাঁকে ‘ভুলত্রুটির রেকর্ডমুক্ত কর্মকর্তা’ বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।