শিরোনাম
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান জে-ক্রিয়েশনের পৌনে ৪ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শহিদ সেনাসদস্যদের পরিবারের সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদা দিয়ে আমন্ত্রণ করেনি ভারত: স্পিকার এমডি-সিইওদের মূল্যায়নের হিসাব নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুঁজিবাজারের উন্নয়নে জ্ঞান, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বাড়ানো জরুরি গত পাঁচ মাসে হামের টিকা পেয়েছে প্রায় দুই কোটি শিশু গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি শরীফপুর ইউনিয়নে শামছুল হকের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

শ্রীমঙ্গলে ব্রি ২৮ ধান চাষ করে বিপাকে কৃষক মাঠে জুড়ে ছিটা ধান,

কাউছার আহমেদ রিয়ন   |   বৃহস্পতিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ১৭০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

শ্রীমঙ্গলে ব্রি ২৮ ধান চাষ করে বিপাকে কৃষক মাঠে জুড়ে ছিটা ধান,

ফাইল ছবি

মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গল হাইল হাওরের বুরো চাষীরা বুরো ধান ব্রি ২৮ রুপন করে পড়েছেন বিপদে। ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েকশত কৃষকের জমির পুরো ধানই নষ্ট হয়েগেছে।

ইউছুপুর,নোয়াগাও, রাজাপুর ও উত্তরভাড়াউা গ্রামের কয়েক শত কৃষকের শত শত একর জমির ধানে ছিটা।
এতে নিজেদের খুরাকি নিয়ে ‍দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ক্ষতিগস্থ কৃষকরা। নষ্ট হওয়া ধান কেউ গরুর জন্য কেটে নিচ্ছেন আবার কেউ জমিতেই ফেলে রেখেছেন।

কৃষি বিভাগ বলছে ব্রি ২৮ রোপনে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে আর কৃষকরা বলছেন বাজারে বীজঘর গুলোতে গেলে উচ্চফলনশীল বলে তারা এ ধান তাদের কাছে বিক্রি করে।

শ্রীমঙ্গল হাইল হাওরের বুরো চাষী ইউছুপ মিয়া বলেন, তিনি হাওেরের নিচু অংশে ১৫ বিঘা জমিতে ব্রি ২৮ জাতের ধাণ চাষ করেন। ধান যখন পাকা শুরু করছে তখন লক্ষ করেন তার জমিনের সকল ধান ছিটা। কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়েও কোন কাজ হয়নি। তিনি জানান, তার নিজের গ্রাম ইউছুপুর, পাশবর্তী নোয়াগাও, রাজাপুর ও উত্তরভাড়াউা গ্রামের কয়েক শত কৃষকের শত শত একর জমির ধানে ছিটা।

এ সময় গ্রামের কৃষক জোবায়ের মিয়া তার জমির ধান দেখিয়ে বলেন, ব্রি ২৮ এবার আমাদের সাথে বেইমানী করেছে। ক্ষেতের পর ক্ষেত ছিটায় ভরে গেছে। তিনি বলেন, নিজের লোক নেই তাই রোজ কামলা দিয়ে ৭৫ হাজার টাকা খরচ করে ১২ কিয়ার জমি চাষ করেছিলেন। সবই শেষ। এবার চাল কিনে খেতে হবে।

নোয়াগাও গ্রামের কৃষক অঞ্জু কর জানান, নিজের জমি নেই ৭ বিঘা জমি বর্গা চাষ করেছেন মানুষের কাছথেকে ঋণ করে এখন পথে বসার উপক্রম।

ইউছুপুর গ্রামের কৃষক শামীম মিয়া জানান, এভাবে দূর্যোগ আসবে তারা ভাবতেও পারেননি। তিনি বলেন, পুরো ধানের ছড়ার প্রায় ৯০ভাগ ধান ছিটা। ১০ ভাগ ভালো থাকলেও কাটানো খরচ দিয়ে তা উপরে পড়বে তাই কেউই তা কাটার চিন্তা করছেন না। অনেকে তা কেটে নিয়ে গরুকে খাওয়াচ্ছেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: মহিউদ্দিন জানান, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১১৪৫১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ব্রি ২৮ -২৬৫১ হেক্টর। যার মধ্যে বেশ কিছু অংশ ব্লাস্ট রোগে আক্রন্ত হয়। যখন এটি প্রথম ধরা পড়ে তখন পাতা একটু একটু মরতে শুরু করে। তখনই কৃষকদের ‍দুই রাউন্ড ছত্রাক নাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেন।একই সাথে ইউরিয়ার পরিবর্তে পটাশিয়াম সার ব্যবহারের পরামর্শ দেন। অনেক কৃষক এই অল্প পাতা মরায় কিছু হবে না ভেবে ছত্রাক নাশক স্পে করেন নি। কেউ কেউ এক রাউন্ড করেছেন। কিন্তু যারা প্রপার নিয়ম মেনেছেন তাদের ফসল নষ্ট হয়নি। এ সময় তিনি আরো বলেন, ব্রি ২৮ অনেক পুরাতন একটি জাত। এটি এখন চাষ করতে কৃষকদের তারা নিরুৎসাহিত করেছেন। এর পরিবর্তে ব্রি ৮৮ ও ৮৯ চাষের জন্য পরামর্শ দেন।

শ্রীমঙ্গল কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রকেন্দ্র শর্মা জানান, তাদের অনুসন্ধান অনুযায়ী ১৬৮ বিঘা জমিতে ব্লাষ্ট রোগে আক্রমনের উপস্থিতি পান। এবং সাথে সাথে কৃষকদের এ থেকে উত্তোরণের পরামর্শ দেন। সে মেতাবেক ১শত বিঘার উপরে জমির ধান নষ্ট হয়নি। তবে ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমি নষ্ট হয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল হাইল হাওরের নিচু এলাকায় বি ২৮ জাতের ধান ও বি ৪৮ জাতের ধান নষ্ট হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে।তবে এটি মুল উৎপানে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেনা। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের তালিকা তৈরী করা হচ্ছে।তাদের সহায়তার জন্য সরকারের কোন বরাদ এলে তখন তারা তা পাবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office