খেলা ডেস্ক | শনিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট | ৯৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহীত ছবি
শীত আগমনী বার্তা দিয়েছে। কুয়াশায় ভিজছে গ্রামের মাঠ-ঘাট। ইট-পাথরের শহরেও শীতের আমেজ। গাছের পাতা পড়তে শুরু হয়েছে। প্রকৃতি কিছুটা তটস্থ। এর মধ্যেই গ্রামে-শহরে রঙ লেগেছে। এবার যে শীতকালে এসেছে ফুটবল বিশ্বকাপ। টু-লেটে ভরে যাওয়া, রঙ চটে যাওয়া দেয়াল সেজেছে বিশ্বকাপের সাজে। ছাদ, বারান্দা-বেলকুনিতে ঝুলে থাকা পতাকা আলতো শীত বাতাসে ওড়ার চেষ্টা করছে।
বিশ্বকাপের রঙয়ে শরীর সাজানোর চেষ্টাও চলছে। হলুদ ও আকাশি-সাদার জার্সি বিক্রি বেড়ে গেছে। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার জার্সি পরিয়ে বাবা-মায়েরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল বুলি না ফোঁটা শিশুর ছবি সেঁটে দিয়েছেন। কাতার বিশ্বকাপের উন্মাদনায় ভাসছে গোটা জাতি।
যে খবর লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পেরা হয়তো জানেন না। তবে ওই উন্মাদনা দেশের গণ্ডি, সংবাদ মাধ্যম ছাড়িয়ে জায়গা পেয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের পাতায়। বিশ্বকে তারা জানিয়ে দিয়েছে, ছোট দেশ, ক্রিকেটের দেশ হলেও একসময় বাঙালির খাওয়া-ঘুম ছিল ফুটবল। চার বছর পরপর বিশ্বকাপের ওই জ্বরে অন্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশ কোন অংশে কম ভোগে না।
জার্সি কিনছেন খুদে ভক্ত। ছবি: ওয়াশিংটন পোস্ট
এই একটা সময় বন্ধুর সঙ্গে তর্ক জমে বেশ। পরিবারে প্রতিষ্ঠিত হয় সমর্থনের সুষ্ঠু গণতন্ত্র। অফিসে কাজের ফাঁকে তর্ক জমে। চায়ের আড্ডায় রাজনীতি সাময়িক ছুটি নেয়। ব্রাজিল ভক্ত আকিব কাদের চৌধুরীর মতে, এক কথায় বললে বিশ্বকাপ মানে উন্মাদনা। টেলিকমিউনিকেশন সেক্টরে কাজ করা আকিব ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, ‘এই উন্মাদনা সারা দেশেই দেখতে পাবেন।’
আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আর্জেন্টিনার ভক্ত নফেল ওয়াহিদ বলেন, ‘জনসংখ্যার বিচারে দেশটা বড়। ১৭০ মিলিয়ন জনগণের দেশ। বিশ্বকাপ আসলে এটা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা এই দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এশিয়ার মাঝখানের একটা দেশ কীভাবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনায় মজলো এটা ব্যাখ্যা করা কঠিন। তবে বিশ্বকাপ যে বিশ্বকে এক কাতারে নিয়ে আসে এইটা মজার বিষয়।’
ওয়াহিদ জানান, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে সেই ম্যারাডোনাকে দেখে শিশু বয়সে তিনি যেমন উচ্ছ্বাসে ভেসেছেন। আবার তার চাচা-চাচিদের লাফাতে দেখাছেন। ১৯৯০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা যখন জার্মানির কাছে পরাজিত হয়, ম্যারাডোনা মেডেল নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়েন। দেখে তিনিও কেঁদে ফেলেছিলেন। তার মা কেবল জড়িয়ে ধরে বলেছিল, আর্জেন্টিনা আবার জিতবে!
আকিব চৌধুরীর অভিজ্ঞতাও একই। তার মতে, নব্বই-এর দশক থেকে বাংলাদেশে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার এই সমর্থক শ্রেণি তৈরি হয়েছে। তিনি তার বাবাকে ব্রাজিলের হারে বিলাপ করতে দেখেছেন। ম্যারাডোনার গোলে ব্রাজিলের হারের পর বলতে শুনেছেন, ‘আমরা (ব্রাজিল) ভালো খেলেছি। কিন্তু তোমরা জিতেছ।’ ওয়াহিদ জানান, সেই ম্যারাডোনার সময় থেকেই তার বাবা-মা আর্জেন্টিনার সমর্থন করেন। এখন মেসি ছাড়া আর্জেন্টিনার চার জনের নাম বলতে পারবেন না তার মা। তবু তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থক।