খেলা ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর ২০২২ | প্রিন্ট | ৭১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহিত ছবি
শেষ হয়ে হইল না শেষ। ব্রিসবেনে বাংলাদেশ দলের চাওয়া ছিল, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে মূল ম্যাচের একাদশ সেট করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ইতি টেনে দেওয়া। বৃষ্টি সেটা হতে দেয়নি। তাই কোচ শ্রীধরন শ্রীরামকে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ পর্যন্ত। যে ম্যাচের প্রতিপক্ষ জানা নেই এখনও। প্রথম পর্ব শেষ হলে প্রতিপক্ষ নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারবেন শ্রীরাম। যদিও টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন জানান, পুরো বিশ্বকাপের গেম প্ল্যান করে ফেলেছেন কোচ। প্রতিপক্ষ ও মাঠের আকারভেদে ওপেনিং জুটি থেকে ব্যাটিং অর্ডারেও পরিবর্তন হবে। সেটা কার্যকর করা হবে ম্যাচ ধরে ধরে। তিনি বিশ্বাস করেন, বিশ্বকাপে ভালো করবে বাংলাদেশ।
ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ, কর্মকর্তা- সবার ভেতরেই একটা বিশ্বাস তৈরি হয়েছে, বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলবে। এই বিশ্বাসের ভিত কোথা থেকে এলো, জানা নেই। গভীরে ঢুকেও তল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবুও ক্রিকেটারদের কথার ওপর আস্থা রাখতে হচ্ছে সবাইকে। তাঁরাই জানেন, কে তাঁদের মাথার ওপর আত্মবিশ্বাসের ছাতা ধরে রেখেছেন। যে কারণে কোচ শ্রীরাম ব্রিসবেনে পৌঁছে বলেছিলেন, সেরা টিম কম্বিনেশন হয়ে গেছে। ব্যাটিং লাইনআপ চূড়ান্ত। খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করে দিয়েছে নিউজিল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজের পারফরম্যান্স। টিম ডিরেক্টর সুজনের কথায়ও অনুরণিত হলো একই বার্তা। তিনি বলেন, ‘আজকের প্রস্তুতি ম্যাচটা হলে ভালো হতো। সেরা একাদশটা দেখে নেওয়ার সুযোগ ছিল। এর পরও বাংলাদেশ দল নিয়ে আমি আশাবাদী। বিশ্বাস করি, বিশ্বকাপে ভালো খেলব আমরা। যদিও সময় সে কথা বলে না। ত্রিদেশীয় সিরিজে কোনো ম্যাচ জিততে পারিনি। এখানে একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি, যেটা ভালো হয়নি। এটা হতেই পারে। একটি প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যর্থতা দিয়ে একটি দলের সামর্থ্য যাচাই করা যায় না। ছেলেরা ভালো মুডে আছে। আমি বিশ্বাস করি, মূল টুর্নামেন্টে ভালো ক্রিকেট খেলবে তারা।’
বিশ্বাস বা মুখের কথায় ক্রিকেট খেলা হয় না। এ জন্য ২২ গজে অলআউট ক্রিকেট খেলতে হবে টাইগারদের। গেম প্ল্যান দিয়ে যেটা হয় না। ক্রিকেটারদের মাঠে স্কিলের বাস্তবায়ন করতে হয়। টিম বাংলাদেশ সেটা পারবে বলে মনে করেন সুজন, ‘আমাদের বোলিংটা ভালো আছে। যেটুকু দুশ্চিন্তা ব্যাটিং নিয়ে। তবে ৮-৯টি ম্যাচে যেভাবে গেছে তাতে মনে হয়, ব্যাটিং লাইনআপ আগের চেয়ে ভালো করছে। লিটন শেষ ম্যাচটি খেলেনি। ও ফিরলে ভালো ব্যাটিং লাইনআপ ঠিক হবে। ওপেনিং জুটি নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে, সেখানেও সেরা সেটআপ পাব আশা করি। যদিও একই সেটআপ পুরো টুর্নামেন্টে থাকবে না। প্রতিপক্ষ দেখে একাদশ সাজাতে হবে। কোনো দলের পেস বোলিং স্ট্রং, কোনো দলের ডানহাতি-বাঁহাতি ব্যাটার বেশি। এই সমন্বয় করে কোচ শ্রীরাম নিশ্চয়ই আলাদা একাদশ সাজিয়ে রেখেছেন। এরপরও সেখানে পরিবর্তন আসতে পারে মূল টুর্নামেন্টের ব্যাটিং বা বোলিং পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে।’ ব্রিসবেনে বাংলাদেশের প্রস্তুতি পর্ব শেষ হবে ২১ অক্টোবর। ২২ অক্টোবর পাড়ি জমাবে ম্যাচ ভেন্যু হোবার্টে। নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ২৪ অক্টোবর। সেদিনই বোঝা যাবে ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের আত্মবিশ্বাস কতটা কার্যকর থাকে মাঠে।