শিরোনাম
সোমবার থেকে কাঁচামরিচ আমদানির কার্যক্রম শুরু হবে: কৃষিমন্ত্রী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলে মিলবে ৫ শতাংশ করছাড়: এনবিআর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবিতে শ্রীমঙ্গলে মানববন্ধন হাকালুকি হাওরে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় হাজারো মানুষের ঢল শাহ আমানতে ৪২৭ গ্রাম সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন : তথ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ’র নতুন মহাসচিব হিসেবে যোগ দিলেন ড. সাহেদুল ইসলাম ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান

১৯৬৬ বিশ্বকাপ: ফুটবল মাঠে যেন ‘রেসলিং’

খেলা ডেস্ক   |   রবিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ১১১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

Default Image

সংগৃহীত ছবি

যে ইংল্যান্ড একসময় ফিফার দিকে নাক সিটকে থাকতো, তারাই একসময় ফিফার আধিপত্য পেয়ে গেল। ফিফার ফরাসি সভাপতির জায়গায় চলে আসেন ইংল্যান্ডের স্যার স্টানলি রাউস। শোনা যায় তার নির্দেশেই সেবার লাতিন দলগুলোর বিপক্ষে বেছে বেছে ইউরোপিয়ান রেফারি নিয়োগ করা হয়েছিল। এশিয়া ও আফ্রিকা চেয়েছিল নিজেদের অঞ্চলে বাছাই পর্ব খেলতে। ফিফা অনুমতি দেয়নি। ফলো গোটা আফ্রিকা সেবার ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ বয়কট করে।

এশিয়া থেকে উত্তর কোরিয়া বিশ্বকাপে গিয়েছিল প্রথমবারের মতো। দু’বারের বিশ্বসেরা ইতালিকে এই উত্তর কোরিয়াই ১-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছিল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখনো ওই শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ অঘটন হিসেবে লেখা আছে ম্যাচটি। সেবারও ব্রাজিলের দিকেই সবার চোখ ছিল। এবং সে কারণে পেলেদের নিয়েও ইউরোপিয় দলগুলো বিশেষ এক কৌশল নিয়েছিল। তখনও পেছন থেকে এসে ধাক্কা দিলে নিয়ম অনুযায়ী তা ‌’ফাউল’ হতো না ! ওই সুযোগটিই নিয়েছিল সকলে। ব্রাজিলের গ্রুপে ছিল পতুর্গাল, হাঙ্গেরি আর বুলগেরিয়া। প্রথম ম্যাচেই মারতে শুরু করে বুলগেরিয়া। চোট নিয়ে কিছুটা ঝুঁকিই নিয়েছিলেন পেলে। কিন্তু বুলগেরিয়ার ঝেচেভ প্রথম ম্যাচেই বিশ্রী ভাবে ট্র্যাকেল করেন পেলেকে। ‘পায়ে ব্যাথা হয়ে গিয়েছিল। সারাক্ষন শুধু মেরেই গেলো ওরা।’ অনেক বছর পর এক সাক্ষাতকারেও সেই ম্যাচে নিজের অসহায়ত্বের কথা বলেছিলেন পেলে।

হাঙ্গেরির ম্যাচে ‘মার খাওয়া’ মিশনের শিকার হন গারিনচা। ব্রাজিলের হয়ে ওটা তার পঞ্চাশতম ম্যাচ ছিল। ১-৩ এ ওই ম্যাচটি হারার পর আর ব্রাজিলের জার্সি পরেননি তিনি। পরের ম্যাচে নয় জন বদলিয়ে পেলেকে নামিয়ে পতুর্গালের মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। হেরে দিগ্বিদিক শূন্য হয়ে পড়েন পেলে। ওই ম্যাচেও এতোটা গা জোয়ারি খেলেছিল পতুর্গাল যে, দলের ডাক্তারের কাঁধে ভর দিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল পেলের। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ব্রাজিলের, অভিমানি পেলে বাড়ি ফিরে বললেন, শেষ বিশ্বকাপ তিনি খেলে এসেছেন ইংল্যান্ডে!

ওদিকে গ্রুপ পর্ব দাপিয়ে খেলে কোয়ার্টারে এসেছে ইংল্যান্ড। শক্তিশালি দল তাদের। ডিফেন্ডার ববি মুর অধিনায়ক, যেন দানব হয়ে তিনি রক্ষা করছেন তার দুর্গ। বল পায়ে প্রতিপক্ষের কেউ সামনে এলেই রক্ষা নেয়- বল ছাড়ো না হয় ভেঙ্গে দেবো পা! এমনই এক মানসিকতায় ফুঁসছিল ইংলিশ দল। ফরোয়ার্ডে জিওফ হার্স্ট তখন সেরা ফর্মে। জন কোনলি, জিমি গ্রেভেস, ববি কার্লটন, রন ফ্লাওয়ার্স- রীতিমতো গোছানো একটি বাগান তাদের। সেই সঙ্গে রেফারি তো আছেনই। কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে নিয়োগ পান জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রিয়েটলিন। অধিনায়ক হিসেবে মাঠের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন রাতিন। আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন ওই জার্মান রেফারি। ১-০ ব্যবধানে ম্যাচটি হেরে যাওয়ার পর জার্সি বদলের সৌজন্যতা দেখাতে গিয়েছিলেন আর্জেন্টনাইনরা।

নাটক হয় তখনই, ইংলিশ কোচ অ্যালফ রামসে তার দলের ফুটবলাদের রীতিমতো ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে নিয়ে আসেন, আর্জেন্টনাইনদের সঙ্গে হাত মেলাতে দেননি তিনি! যে অভ্যবতার কারনে আজও কথা শুনতে হয় ইংরেজদের। সেমিফাইনালে পর্তুগালকে পায় ইংল্যান্ড। এবং এখানেও সেই কুট কৌশল। ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল গুডিসন পার্কে, এভারটনের মাঠে। দুর্দান্ত ছন্দে তখন পর্তুগালের ইউসেবিও। কিন্তু ম্যাচ শুরুর দু’দিন আগেই সিদ্বান্ত হলো গুডিসন পার্ক নয়, খেলা হবে ওয়েম্বলিতে। যুক্তি দেওয়া হলো- ওয়েম্বলিতে দর্শক আসন বেশি। আর ম্যাচটির আকর্ষণও তুঙ্গে। লিভারপুল থেকে লন্ডন, বাসে পাঁচ ছয় ঘন্টা জার্নি করে খেলতে নামলো পুর্তগাল। আসলে লক্ষ্যটা ছিল পর্তুগালকে সেমিফাইনালের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতির সময় না দেওয়া। ম্যাচটি ২-১ গোলে হেরে যায় পুর্তগাল।

ফাইনালে হার্স্টের ইংল্যান্ড আর বেকেনবাওয়ারের পশ্চিম জার্মানি। দুই দলের জমাট রক্ষনে নির্ধারিত নব্বই মিনিটে ২-২। ১৯৩৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের খেলা। বিতর্কটা তার পরেই। র্কনার থেকে পাওয়া বল হার্স্ট পাঠিয়ে দেন গোলপোস্টের দিকে। বলটি বারে লেগে মাটিতে পড়ল, জার্মান ডিফেন্ডার ওয়েবার হেড দিয়ে তা ক্লিয়ার করে দেন। কিন্তু রেফারির মনে হয়েছে গোল!

ইংলিশদের আনন্দের পাশাপাশি জার্মানদের প্রতিবাদ চললো মাঠে। সুইস রেফারি গটফ্রায়েড ডিঢেনস্ট দৌড়ালেন লাইন্সম্যান আজারবাইজানের টোফিক বাখরামভের দিকে। অনেক দুরে থাকা সত্বেও লাইন্সম্যানের রায় – ওটা গোল ! ভেঙে পড়েন জার্মানরা। শরীরি ভাষায় হাল ছেড়ে দেওয়ার ছাপ ছিল স্পষ্ট। ওরই মধ্যে হার্স্টের হ্যাটট্রিক। বিশ্বকাপ ফাইনালে যা এখনো রেকর্ড হয়ে আছে। বির্তকিত ওই গোল ধরেই ইংল্যান্ডের প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ জয়। কিন্তু বির্তকের সেই দাগ মোছেনি এখানো। আজও সেই বির্তক চলে- ওটা কি গোল ছিল? আজ এই ছিয়াত্তর বছর বয়সে এসেও নাকি হার্স্টকে সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এবং সবখানেই তিনি বলেন- ‘ না, গোল লাইন পেরোইনি বল।’

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন ajkersanglap.com-এর খবর

Editor and Publisher
Muhammad Abdus Salam (Salam Mahmud)
Office