| বুধবার, ১২ অক্টোবর ২০২২ | প্রিন্ট | ৮৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহিত ছবি
এশিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০০২ বিশ্বকাপ সেনেগালের জন্য ইতিহাস লেখার বছর। প্রথমবার বিশ্ব আসরে এসেই বাজিমাত করে দলটি। নাম তোলে কোয়ার্টার ফাইনালে। এরপর আবার বিরতি। এই প্রথম টানা দু’বার বিশ্বকাপ খেলবে আফ্রিকান দেশটি।
তাদের আছেন ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাবে খেলা সাদিও মানের মতো স্ট্রাইকার, কাউলিবালির মতো ডিফেন্ডার। যারা আফ্রিকান কাপ অব নেশনস জিতেছেন। আরব দেশের চেনা কন্ডিশনে আফ্রিকান প্রতিনিধিরা চমকে দিতে পারেন। সাদিও মানে যেমন স্বপ্ন দেখেন, ২০০২ বিশ্বকাপের রেকর্ড ভাঙার। অর্থাৎ সেমিফাইনালে খেলার। বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে ফিফাকে সাক্ষাৎকারে দলটির অনেক দিক নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
ফিফা: মিশরের বিপক্ষে সেনেগাল আফ্রিকান কাপের ফাইনালে খেলল। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে অফেও খেলল। অল্প সময়ের মধ্যে একই দলের বিপক্ষে দু’বার এমন বাঁচা-মরার ম্যাচ। একটু কী অবাক হয়েছিলেন?
সাদিও মানে: দুই পরিস্থিতির মধ্যে মিল আছে। পার্থক্যও আছে। আফ্রিকান কাপের ফাইনালে মিশরকে পাওয়ায় সাবেক ক্লাব সতীর্থ মোহামেদ সালাহকে মেসেজ দিয়েছিলাম। দু’দলের মধ্যে কথার লড়াই হচ্ছিল। জাতি হিসেবে আমাদের ফুটবলের প্রতি অসীম আবেগ। আগে কখনও আফ্রিকান নেশনস কাপ জিতিনি। এটা আমাদের জন্য একটু অস্বস্তির মুহূর্ত ছিল। ওই জয়ের পর জানতাম যে বিশ্বকাপ প্লে অফ মিশরের বিপক্ষে পড়বে। আফ্রিকার সেরা হিসেবে আমাদের ম্যাচটা জিততে হতো। প্রমাণ করার জন্য যে, আফ্রিকান কাপ আমরা কপাল গুনে জিতিনি। বিশ্বকাপে খেলার জন্য ক্রীড়াবিদ হিসেবে ওমন ম্যাচের জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে।
ফিফা: বিশ্বকাপে সেনেগালের জায়গা নিশ্চিত হওয়া গোল করার অনুভূতি কী?
সাদিও মানে: এখনও ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। অসাধারণ মুহূর্ত। ম্যাচটা ঘরের মাঠে ছিল। আমরা জানতাম, স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে। একদিন আগেই স্টেডিয়ামের আশপাশ ভরে যায়। ওই ম্যাচের গুরুত্ব ছিল অন্য রকম। প্রথম লেগে ১-০ গোলে হেরেছিলাম। যার তিক্ত স্বাদ মুখে লেগে ছিল। ওটাই যেন আমাদের এক একজনকে যোদ্ধা বানিয়ে তুলেছিল। একটু চাপই মনে হচ্ছিল। কিন্তু দর্শকের সমর্থনে তা মুহূর্তে মিলিয়ে যায়। মিশরের গোলরক্ষকের দিকে যখন এগিয়ে গেলাম…,জীবনে এতো উদ্দীপ্ত আমি কখনই ছিলাম না। বাকিটা ইতিহাস।
চেলসিতে খেলা সেনেগাল জাতীয় দলের অধিনায়ক কাউলিবালি। ছবি: ফাইল
ফিফা: সেনেগালের নবনির্মিত স্টেডিয়ামে গোল করার মুহূর্তটা কি বেশি বিশেষ?
সাদিও মানে: অবশ্যই। আগেই বলেছি খুব চাপ অনুভব হচ্ছিল। বিষয়টি এমন যে, ঘরের মাঠে এই ম্যাচ কোনভাবেই হারা যাবে না।
ফিফা: সাবেক সেনেগালিচ ফুটবলার আলিউ সিসে এখন আপনাদের কোচ। এটা কি বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে?
সাদিও মানে: নিঃসন্দেহে। শৈশবে তিনি বিদেশ কাটালেও ভেতর থেকে দেশটাকে চেনেন-জানেন। আমাদের দলে দেশের সমগ্র অঞ্চল থেকে খেলোয়াড় যুক্ত হয়েছেন। তিনি জানেন, তাদের কীভাবে সামলাতে হয়। অনেক বছর তিনি সেনেগালের অধিনায়ক ছিলেন। তিনি ২০০২ আফ্রিকান কাপের অংশ ছিলেন। ওই ম্যাচের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন তিনি। ফুটবল এবং আমাদের খেলার ধরন নিয়ে পরিষ্কার ধারণা আছে তার। তিনি দেশের ফুটবল নিয়ে আবেগি। মাত্র দু-একটা কথা কিংবা শরীরি ভাষা দিয়ে যা আমাদের মধ্যে মুহূর্তে ঢুকিয়ে দিতে পারেন।
ফিফা: কোচ হিসেবে সিসের শক্তির জায়গা কী?
সাদিও মানে: তিনি একজন নেতা, আমাদের অনেকের কাছে বড় ভাইয়ের মতো। তার সঙ্গে যেকোন বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারি এবং এটাই তাকে বিশেষ করে তুলেছে। আমাদের সেরাটা বের করে নিতে পারেন। সেজন্যই দলের সকলে মুখে হাসি নিয়ে জাতীয় দলে যোগ দেন। তিনি থাকলে ক্যাম্পের পরিবেশ বদলে যায়। যা মাঠে ফুটে ওঠে। আরেকটি ব্যাপার হলো, যেকোন মুহূর্তে তিনি ইতিবাচক মানুষ। আমার দিক থেকে, ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত জাতীয় দল থেকে পেয়েছি এবং এটা কেবল তার জন্য।
ফিফা: সেনেগাল গ্রুপ ‘এ’ তে কাতার, ইকুয়েডর ও নেদারল্যান্ডসকে পেয়েছে। ডাচরা কি সেনেগালের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি?
সাদিও মানে: তাদের সম্মান দেখাতে হবে। তারা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ভালো অবস্থানে আছে। শক্তিশালী দল, বিশ্বকাপে ভালো স্মৃতি আছে। তবে গ্রুপের অন্য দুই দল কাতার এবং ইকুয়েডরকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। ইকুয়েডর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খুবই ভালো খেলেছে। ঘরের মাঠে খেলায় কাতারও কঠিন হবে, তার ওপরে এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন। গ্রুপের কোন দলকেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বরং আমাদের সতর্ক, মনোযোগী এবং ম্যাচ ধরে চিন্তা করে এগোতে হবে।
ফিফা: ২০০২ সালের দলটা বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। ওই দলের চেয়ে ২০২২ সালের দল কোনদিক থেকে শক্তিশালী?
সাদিও মানে: ২০০২ সালের দলটা আমাদের রোল মডেল। ওই দলটা সেনেগালকে বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে জায়গা দিয়েছে। তারা ইতিহাস লিখেছেন এবং আমরা তাদের উত্তরসূরী। তারা রেকর্ড ভেঙেছেন এবং সব রেকর্ড গড়া হয় ভাঙার জন্য। এটাই (রেকর্ড ভাঙা) আমাদের লক্ষ্য এবং চ্যালেঞ্জ। আমি কেবল আপনাকে বলতে পারি যে, কাতারে আমরা শক্তির জায়গা জেনে পরিষ্কার ধারণা নিয়ে যাচ্ছি এবং আমরা সর্বোচ্চটা দিতে প্রস্তুত। পূর্বসূরীরা আমাদের থেকে সেটাই প্রত্যাশা করেন। এ বছর যখন আফ্রিকান কাপ অব নেশনস জিতলাম তাদের আবেগ দেখেই আপনারা বিষয়টি বুঝতে পারছেন। আমাদের কিংবদন্তি হাদজি দাউফকে প্রশ্ন করলে উনি বলবেন সেনেগালকে বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত (ফাইনালে) দেখতে চান।