খেলা ডেস্ক | বুধবার, ২৭ জুলাই ২০২২ | প্রিন্ট | ১০৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহিত ছবি
খালি চোখে দেখতে বাংলাদেশের বর্তমান টি২০ দলটা খুবই তরুণ। যাঁদের কাছে থেকে বেশি কিছু আশা করার লোকের অভাব আছে। কিন্তু একটু গভীরে গেলে নুরুল হাসান সোহানের দলকেই সময়ের সেরা মনে হতে পারে। ১৫ জনের স্কোয়াডের ১৪ জনই তো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। তাঁদের বেশিরভাগ ওয়ানডে দলেরও নিয়মিত মুখ। সবচেয়ে বড় কথা, গত টি২০ বিশ্বকাপ দলের ছয় ক্রিকেটার রয়েছেন এই দলে।
অর্ধশত টি২০ ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার রয়েছেন দু’জন। আফিফ হোসেনেরও খেলা হয়ে গেছে ৪৪টি টি২০ ম্যাচ। স্কোয়াডের সবাই মিলে খেলেছেন ৩৬৩টি ম্যাচ। এমন একটি দলকে অনভিজ্ঞ বলার অর্থ হতে পারে ক্রিকেটারদের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশ। জাতীয় দল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত সবাই অন্তত তা-ই মনে করেন।
আন্তর্জাতিক অভিষেক বিবেচনায় নিলে বর্তমান দলের সবচেয়ে সিনিয়র ক্রিকেটার এনামুল হক বিজয়। ২০১২ সালে টি২০ অভিষেক হয় তাঁর। তাসকিন আহমেদ তো তিন তিনটি টি২০ বিশ্বকাপ খেলা পেসার। ২০১৪ সালে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অভিষেকে যিনি কিনা গতির ঝড় তুলে হৃদয় জয় করে নিয়েছিলন। ত্রুটিপূর্ণ বোলিং অ্যাকশনের কারণে নিষেধাজ্ঞায় পড়ে ২০১৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপের পুরোটা খেলতে না পারলেও ২০২১ সালের টুর্নামেন্টে নিয়মিত একাদশের সদস্য ছিলেন তাসকিন।
তপ্ত মরুর বুকে গতি এবং বলের নিয়ন্ত্রণ দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকান ফাস্ট বোলার কাগিসো রাবাদার প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। আইপিএলে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান জাতীয় দলে খেলছেন প্রায় সাত বছর। বিজয়, তাসকিন, মুস্তাফিজরা তো সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবেই গণ্য হওয়ার কথা? মুশফিকুর রহিম বা মাহমুদউল্লাহদের পরবর্তী জেনারেশন তাঁরাই।
মঙ্গলবার শেখ মেহেদীও সে বার্তা দিলেন, ‘এই দলে একদমই তরুণ কেউ না। সবাই ৪ থেকে ৫ বছর খেলে ফেলেছে। ১০ বছর ক্রিকেট খেলা কোনো খেলোয়াড় হয়তো নেই, তবে ৭ থেকে ৮ বছর খেলা খেলোয়াড় আছে। তাই বেশিরভাগই তরুণ না। তরুণ বলতে মুনিম শাহরিয়ার আর পারভেজ ইমন। সবাই পরিপকস্ফ, মোটামুটি অভিজ্ঞ। সবার বোঝার সামর্থ্য আছে, সবাই সামর্থ্যবান।’
সাদা বলের খেলার সেরা বোলিং লাইনআপের সবাই রয়েছেন ১৫ জনে। তাসকিন, মুস্তাফিজ, শরিফুল ইসলাম তামিম ইকবালের ওয়ানডে দলের সেরা পছন্দ। মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ, মোসাদ্দেক হোসেনদেরই বা বাদ দেবেন কী করে। সেদিক থেকে দেখলে পূর্ণশক্তির বোলিং লাইনআপ দেওয়া হয়েছে সোহানকে।
অফস্পিনার শেখ মেহেদী এবং পেসার হাসান মাহমুদও রয়েছেন। মাহমুদউল্লাহকে দল গড়ার দায়িত্ব দেওয়া হলে এই বোলারদেরই নিয়ে যেতেন জিম্বাবুয়ে। যে সামান্য পরিবর্তন চোখে পড়ছে, তা ব্যাটিংয়ে মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকের না থাকা। সাকিব আল হাসান তো আগে থেকেই ছুটিতে। বাঁহাতি এ অলরাউন্ডারের সঙ্গে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও ইয়াসির আলী রাব্বি ফিরলে ১৫ জনের দল গড়তে মধুর সমস্যায় পড়তে হবে নির্বাচকদের।
তাই দুই সিনিয়রকে বাদ দেওয়ায় টি২০ দলের মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে, তা ভাবার কোনো কারণ নেই। শেখ মেহেদী যেমন বলেছেন, ‘আমাদের প্রমাণ করার আসলে কিছুই নেই। একটা সময় তো সিনিয়ররা থাকবেন না। আমাদের ব্যাচ থেকে অনেকেই সিনিয়র হয়ে যাবে। সাকিব ভাই, তামিম ভাই, রিয়াদ ভাইরাও একসময় জুনিয়র হয়ে খেলেছেন। ২০১১ বিশ্বকাপে সাকিব ভাই ওয়ানডে বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ২২ বছর। ওখান থেকে খেলতে খেলতে এই পর্যায়ে এসেছেন। এখন যে তরুণ দল আছে, সময় পেলে তারাও অভিজ্ঞ হবে।’
এদিক থেকে দেখলে ছন্দহীন সিনিয়রের চেয়ে একাগ্রতা জুনিয়র ক্রিকেটারকে দলে রাখা ভবিষ্যতের বিনিয়োগ। ঝুঁকি নিয়ে খেলার সাহস অন্তত আছে তারুণ্যে।